Sunday 12 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আর্জেন্টিনার জয়ে কানসাস স্টেডিয়ামে নাদিয়ার উচ্ছ্বাস

এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক
১২ জুলাই ২০২৬ ১৫:০৪

জনপ্রিয় নাট্য অভিনেত্রী নাদিয়া আহমেদ প্রিয় ফুটবল দল আর্জেন্টিনার প্রতিটি ম্যাচ গ্যালারিতে বসে উপভোগ করছেন এবং মাঠের সেই টানটান উত্তেজনার মুহূর্তগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে নিজের তুমুল উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দারুণ জয়টি তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে উদযাপনের মাধ্যমে ভক্তদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন। আমেরিকার কানসাস স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখার পর সেখান থেকে বেশ কিছু চমৎকার ছবি প্রকাশ করেছেন নাদিয়া আহমেদ, যেখানে তার সঙ্গে রয়েছেন অভিনেতা ও স্বামী এফ এস নাঈম। ছবিতে এই তারকা দম্পতির বাঁধভাঙা আনন্দ আর উল্লাস দেখে খুব স্পষ্টভাবেই বোঝা যাচ্ছে যে, আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের টানা জয়ের জোয়ারে তারা কতটা আন্দোলিত এবং রোমাঞ্চিত। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টের ক্যাপশনেও তাদের সেই গভীর ফুটবল আবেগের বিষয়টি দারুণভাবে ফুটে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

কানসাস স্টেডিয়ামে বসে নাদিয়া আহমেদ লিখেছেন, আর্জেন্টিনার জয়যাত্রা চলছে এবং দল এখন সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এই বিশেষ ভেন্যুর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি স্মৃতি রোমন্থন করে উল্লেখ করেন যে, এটি সেই ঐতিহাসিক স্টেডিয়াম যেখানে ২০০৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আসরে আর্জেন্টিনা তাদের প্রথম ম্যাচটি আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে জিতেছিল এবং আজ ঠিক একই মাঠে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের সাক্ষী হলেন তারা। খেলা শুরু হওয়ার আগে দেওয়া একটি দীর্ঘ পোস্টে নাদিয়া আর্জেন্টিনার একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে নিজের সুদীর্ঘ ও আবেগময় পথচলার কথা বিশদভাবে তুলে ধরেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০২২ সালের মহাকাব্যিক অর্জনের আগে আর্জেন্টিনার শেষ বিশ্বকাপ জয় এসেছিল ১৯৮৬ সালে কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনার হাত ধরে। তাই এই দীর্ঘ সময়ে আর্জেন্টিনার সমর্থক হিসেবে টিকে থাকতে হলে ভক্তদের মানসিক শক্তি ও মনোবল সত্যিই কতটা শক্ত করতে হয়েছে, সেই অপ্রিয় সত্যটি তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন।

নিজের পোস্টে নাদিয়া একে একে ২০০২ সালের চরম হতাশা, ২০০৬ সালের আক্ষেপ, ২০১০ সালের ব্যর্থতা, ২০১৪ সালের ফাইনালে জার্মানির কাছে ট্রফি হেরে যাওয়ার সেই হৃদয়ভাঙা কষ্ট এবং ২০১৮ সালের বিদায়ের বেদনাদায়ক মুহূর্তগুলোর কথা উল্লেখ করেন। এত সব ব্যর্থতার পরেও তারা কখনো দলের প্রতি ভালোবাসা হারাননি বা অন্য কোনো দলকে সমর্থন করেননি, যদিও বছরের পর বছর ধরে ট্রল ও ঠাট্টা করে অনেকেই আর্জেন্টিনাকে ‘আরজেতেনা’ বলে ডাকত। দীর্ঘ সময় ধরে ধৈর্য, অগাধ বিশ্বাস আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা বুকে ধরে এই দলের পাশে থাকার পর অবশেষে ২০২২ সালে কাঙ্ক্ষিত লড়াকু শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে কোটি ভক্তের বহুদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, তারা কখনো এমন কোনো দলকে সমর্থন করেননি যাদের কেবল বর্তমান সাফল্য দেখেই মানুষ দলে দলে ভিড় করে, বরং মাত্র দুটি বিশ্বকাপ ট্রফি থাকার সময় থেকেই তারা স্বপ্ন দেখেছিলেন একদিন নিজের চোখে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বসেরা হতে দেখবেন এবং সেই স্বপ্ন আজ বাস্তব।

আর্জেন্টিনার প্রতি এই দেশের কোটি ভক্তের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ফুটিয়ে তুলে অভিনেত্রী লেখেন, যারা গত বিশ্বকাপ বা বর্তমান ট্রফির হিসাব নিয়ে অনেক সমালোচনা করছেন, তাদের জেনে রাখা ভালো যে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা কয়টি ট্রফি জিতেছে সেই সংখ্যা দেখে এই দলকে ভালোবাসেনি। এই ভালোবাসার মূল ভিত্তি হলো দলের গৌরবময় ইতিহাস, আকাশী-সাদা জার্সি, নিখাদ আবেগ আর চিরন্তন পরিচয়। আর্জেন্টিনা ভক্তরা ট্রফির লোভে নয়, বরং গভীর আত্মিক টানের কারণে সবসময় দলের পাশে ছায়ার মতো থাকে। ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা জয়ের পর থেকে আর্জেন্টিনার ঝুলিতে এখন সাফল্যের অনেক বড় বড় গল্প জমা হয়েছে, তাই কোনো ধরনের হিংসাত্মক মন্তব্য বা নেতিবাচক কথায় এই আবেগকে বিন্দুমাত্র ছোট করা যাবে না। নাদিয়ার এই গভীর উপলব্ধি প্রমাণ করে যে, আর্জেন্টিনা সমর্থকদের কাছে এটি কেবল একটি ফুটবল দল নয়, এটি আসলে একটি চিরন্তন অনুভূতির নাম যাকে কোনোভাবেই ভেঙে ফেলা সহজ নয়।

সারাবাংলা/এফএন/এএসজি