উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা তার দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময়ের গৌরবময় পেশাদার সংগীতজীবনে অসংখ্য কালজয়ী গান উপহার দিয়ে শ্রোতাদের হৃদয়ে এক স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। গুণী এই শিল্পীকে নিয়ে এবার আয়োজিত হতে যাচ্ছে এক জাঁকজমকপূর্ণ একক সংগীতসন্ধ্যা, যা আগামী ১৮ জুলাই ঢাকার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। এই বিশেষ আয়োজনটি নিয়ে নিজের গভীর অনুভূতি প্রকাশ করে সুরের এই জাদুকর গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, আমাদের দেশের সংগীতের দীর্ঘ পথচলা, সুমধুর গান এবং সোনালী স্মৃতিগুলো নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এমন চমৎকার উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ ৬২ বছরের সমৃদ্ধ পেশাদার সংগীতজীবনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চে মাত্র দুই থেকে তিনবারের বেশি গান গাওয়ার সুযোগ পাননি তিনি, আর সেখানে নিজস্ব একক সংগীতসন্ধ্যা নিয়ে হাজির হওয়ার অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম। এই ঐতিহাসিক আয়োজনে শ্রোতাদের প্রিয় কিছু গান পরিবেশন করে একটি সুন্দর ও চিরস্মরণীয় সন্ধ্যা উপহার দেওয়ার জন্য তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
বিশেষ এই সুরের সন্ধ্যায় রুনা লায়লা তার দীর্ঘ গৌরবময় সংগীত সফর থেকে বেছে নেওয়া শ্রোতাপ্রিয় ১০টি কালজয়ী গান পরিবেশন করবেন, যা বিভিন্ন সময়ে অগণিত মানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছিল। ভারত ও পাকিস্তানে এখনও সমানভাবে তুমুল জনপ্রিয় এই শিল্পী একবার একটি গান রেকর্ডিং করার সময় অসাবধানতাবশত মাছি গিলে ফেলেছিলেন, যা তার জীবনের এক বিচিত্র ও স্মরণীয় ঘটনা। পারিবারিক কারণে প্রায় মাসখানেকেরও বেশি সময় ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার পর সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন তিনি এবং ঢাকার এই বিশেষ আয়োজন শেষ করেই চলতি মাসের শেষ সপ্তাহের দিকে প্রবাসী বাংলাদেশি দর্শকদের গান শোনাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। এর আগে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এই বিশেষ একক সংগীতসন্ধ্যা সিরিজে দেশের অন্য দুই কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমীন ও সৈয়দ আব্দুল হাদী নিজেদের চিরসবুজ গান পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন, আর সেই গৌরবময় ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই এবার সুরের মায়াজালে ঢাকার মঞ্চ মাতাতে উঠছেন চিরসবুজ রুনা লায়লা।