Sunday 16 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

পদ্মায় বাসডুবি / ‘সোনার ছেলে আমার, সেই ছেলে নাই হয়ে গেছে’

সুজন বিষ্ণু, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৬ মার্চ ২০২৬ ১৪:৪৫ | আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২৬ ১৭:৪৪

নিহতদের স্বজনের আহাজারি।

রাজবাড়ী: আমার একটা মাত্র বাচ্চা, সোনার ছেলে আমার। আমার চাঁদের মতোন ছেলে। সেই ছেলে নাই হয়ে গেছে। আমার একমাত্র ভাইটাও চলে গেল। আমার মা টাকেও হারিয়ে ফেললাম। এভাবে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আর্তনাদ করছে দৌলতদিয়ায় বাসডুবির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া স্বজনহারা ডা. ইসরাত জাহান রুবা।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) পৌর শহরের ৭নং ওয়ার্ড ভবানীপুর লাল মিয়া সড়কে নিহতের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের আহাজারি দেখা যায়।

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকালে দৌলতদিয়া ঘাটে অপেক্ষমাণ বাস ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। এ ঘটনায় নিহত হন রাজবাড়ীর একই পরিবারের তিনজন সদস্য।

নিহত আহনাফের বড় বোন ও তাজবীরের মা ডা. ইশরাত জাহান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি কেমনে করে বাঁচব তোরে ছাড়া (তাজবীর), আমি কেন আগের দিন আমার বাচ্চাটারে নিয়ে গেলাম না, তাহলে আমার বাচ্চাটা বেঁচে যেত। আমার ছোট ভাইটাও চলে গেল। আমি ঢাকায় ছিলাম। আমার বাচ্চা আসতেছে এজন্য আমি বাসায় রান্না করছিলাম। আমি কিছুই জানতাম না। সন্ধ্যায় আমাকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ফোন দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর আমার বন্ধু আমাকে ফোন দিয়ে জানায় আমার মা আর নেই। আমার ছোট ভাই ও আমার বাচ্চার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। পরে জানতে পারলাম আমার ছোট ভাই ও আমার একমাত্র সন্তানও মারা গেছে। সন্তানের লাশ রাতে শনাক্ত করেছিলাম, আর ছোট ভাইয়ের লাশ আজ সকালে পেয়েছি। আমার মায়ের লাশ রাতেই গোয়ালন্দ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পেয়েছিলাম।

বিজ্ঞাপন

তিনি সন্তান ও ভাইয়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি ঈদের ছুটি শেষ করে যখন ঢাকা যাই তখন আমার ছেলে বলছিল মা সাবধানে যেও। আমি তখন বললাম রাতে কার কাছে ঘুমাবা তুমি, সে বলল মামার কাছে ঘুমাব। আমার ছেলের মামাও নেই, আমার ছেলেও নেই। দুজন মিলে নাই হয়ে গেছে আমার জীবন থেকে। আমার এত ভালো ভাই, আমাদের এত সুন্দর সংসার, আমরা দুই বোন ডাক্তার। কত সুখ শান্তি আমাদের পরিবারে, এক সেকেন্ডের মধ্যে সব কিছু শেষ হয়ে গেল। আমার সংসার ভেঙে ছাড়খার হয়ে গেল। আমার সব ছিল, এখন সব নাই হয়ে গেল। আমি এখন কি নিয়ে বাঁচব।

নিহত শিশু তাজবীরের চাচা আতাউল গণি মুক্তাদির বলেন, আমার ভাতিজারা ঢাকায় মিরপুরে থাকে। আমার ভাতিজা আমাদের বংশের প্রদীপ ছিল। ওর বাবা মেরিন ইঞ্জিনিয়ার, বর্তমানে সে সুদানে রয়েছে। আমার ভাতিজার মা একজন চিকিৎসক। আনার তাজবীর ইংলিশ মিডিয়ামে প্লে শ্রেণিতে পড়ে। আমার ভাতিজা ঈদের ছুটিতে রাজবাড়ীতে এসেছিল দাদা বাড়ি ও নানা বাড়িতে ঈদ করতে। ঈদ শেষ করে গতকাল বিকেলে আমার ভাতিজা তার নানী, খালা ও মামার সঙ্গে ঢাকায় ফিরছিল। তাদের বাসটি দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। এতে তাজবীরের খালা বেঁচে ফিরে এলেও বাকিরা মারা গেছে।

একই পরিবারের নিহত তিনজন হলেন, রাজবাড়ী পৌরসভার ভবানীপুর ৮নং ওয়ার্ড লালমিয়া সড়ক এলাকার মৃত মৃত ইসমাঈল হোসেন খানের স্ত্রী রেহেনা আক্তার (৬১), রেহেনা আক্তারের ছোট ছেলে আহনাফ তাহমিদ খান (২৫) ও রেহেনা আক্তারের নাতি রাজবাড়ী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কেবিএম মুসাব্বির ও ডা. ইশরাত জাহান রুবার ছেলে তাজবীর (৭)। নিহত আহনাফ জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ শিক্ষার্থী ছিলেন।

নিহতদের জানাজা শেষে ভবানীপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর