Friday 21 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

গাইবান্ধার বালাসী ঘাটে চাঁদাবাজ-বখাটেদের উৎপাত

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৩০ মে ২০২৬ ১৭:৩৩ | আপডেট: ৩০ মে ২০২৬ ২১:১৯

বালাসী ঘাট।

গাইবান্ধা: জেলার ফুলছড়ী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত বালাসী ঘাটে চাঁদাবাজি, বখাটেদের উৎপাত ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে পর্যটকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব কারণে ধীরে ধীরে দর্শনার্থীরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন জেলার অন্যতম জনপ্রিয় এই পর্যটনকেন্দ্র থেকে। এর প্রভাব পড়েছে নৌকা ও ঘোড়ার গাড়িনির্ভর স্থানীয় ব্যবসাতেও।

ঈদের তৃতীয় দিন শনিবার (৩০ মে) বালাসী ঘাট ঘুরে দেখা যায়, অন্যান্য বছরের তুলনায় দর্শনার্থীর উপস্থিতি অনেক কম। নতুন করে যারা ঘাটে আসছেন, তাদের মধ্যেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদীবেষ্টিত জেলা গাইবান্ধার অন্যতম দর্শনীয় স্থান বালাসী ঘাট। জেলার অন্যান্য বিনোদনকেন্দ্রের তুলনায় এখানে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ বেশি থাকায় প্রতি ঈদে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঘুরতে আসেন। ব্রহ্মপুত্রের পাড়, নির্মল বাতাস ও প্রাকৃতিক পরিবেশ দীর্ঘদিন ধরে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধীদের দৌরাত্ম্যে সেই আকর্ষণ কমতে শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়রা জানান, ঈদ উপলক্ষ্যে নদীতে বেশ কিছু নৌকা নামানো হয়েছে এবং বালুচরে ঘোড়ার গাড়ির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। কিন্তু প্রত্যাশিত সংখ্যক দর্শনার্থী না আসায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

দর্শনার্থীদের অভিযোগ, বালাসী ঘাটে বখাটেদের উত্যক্তকরণ, চাঁদাবাজি এবং ছিনতাইয়ের মতো ঘটনার কারণে পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, পর্যটকদের হয়রানি এবং স্থানীয় অপরাধী চক্রের সক্রিয়তায় ঘাটের পরিবেশ ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

মেহেদী হাসান নামের এক দর্শনার্থী বলেন, ‘এই ঘাটে আসামাত্রই নৌকার মাঝিদের কাছে হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে। কেউ কেউ না বুঝে নৌকায় উঠে মাঝপথে ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন। আবার বালুচরে পৌঁছামাত্র শুরু হয় বখাটেদের উৎপাত।’

একাত্তর টেলিভিশনের স্থানীয় ক্যামেরাপারসন তাজরুল ইসলাম বলেন, ‘বালাসী ঘাটে অবৈধ টোলের নামে চাঁদা দাবি করে নৌকার মাঝিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং পকেটে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনাটি আমি ভিডিও ধারণ শুরু করলে কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি পরিচয় দেওয়া এক যুবক আমার মোবাইলফোন কেড়ে নেয়। পরে ফোনে থাকা ভিডিও ফুটেজ ও গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট ডিলিট করে দেয়। এ ছাড়াও আমাকে ধাক্কা দেয়, অকথ্য ভাষায় গালাগালি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।’

এ বিষয়ে ফুলছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দুরুল হোদা বলেন, ‘বালাসীতে আগত মানুষেরা যাতে করে নির্বিঘ্ন আনন্দ উপভোগ করতে পারে, সে বিষয়ে নজরদারি রয়েছে।’

সারাবাংলা/এআর