বাগেরহাট: উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধে বাগেরহাটের মোংলায় বিশেষ ম্যানগ্রোভ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ব্র্যাক জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচির অধীনে এবং ড্যানিশ মিনিস্ট্রি অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স-এর অর্থায়নে ‘রেইন ফর লাইফ প্রোজেক্ট’-এর আওতায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই ) সকালে মোংলার চিলা ইউনিয়নের কলাতলা গ্রামের পশুর নদীর পাড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে উপকূলের মানুষ ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করার লক্ষ্য নিয়ে এই প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় বনাঞ্চলে মোট ৩৫ হাজার চারা রোপণ ও বীজ বপন করা হবে।
এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মোংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শারমিন আক্তার সুমী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর কেন্দ্রীয় নেতা ও পরিবেশযোদ্ধা মো. নূর আলম শেখ এবং ব্র্যাক প্রকল্পের অপারেশন ম্যানেজার প্রকাশ চন্দ্র বিশ্বাস। এ ছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ব্র্যাকের অন্যান্য কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার সুমী বলেন, ‘সরকার আগামী ৫ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। মোংলা উপজেলা অত্যন্ত জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় এখানে বনায়ন খুবই জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় ব্র্যাকের এই ম্যানগ্রোভ বনায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
তিনি উপকূলের মানুষ ও প্রকৃতি রক্ষায় গাছ রোপণের পাশাপাশি তা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, চিলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তেলিখালী ও কেয়াবুনিয়া গ্রামের পুরোনো ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের ভেতরের ফাঁকা স্থানগুলোতে বাইন ও কাঁকড়া প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হবে। এ ছাড়া কেওড়া, পশুরসহ অন্যান্য উপযোগী ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বীজ বপন করা হবে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সরাসরি সম্পৃক্ত করে রাস্তার একপাশে প্রায় ১ কিলোমিটার জুড়ে এই বনায়ন কার্যক্রম চলবে।
এদিকে বনায়ন কর্মসূচিকে স্থানীয় সচেতন মহল সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি চারা টিকিয়ে রাখার বিষয়ে তাগিদ দিয়েছেন অনেকেই।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে মোংলার বিভিন্ন এলাকায় ম্যানগ্রোভ বনায়নের নামে কিছু এনজিওর বিরুদ্ধে নামকাওয়াস্তে চারা রোপণ করে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় চারা রোপণের পর তা আর রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না, ফলে গাছগুলো মারা যায় এবং সরকারি বা দাতা সংস্থার টাকা অপচয় হয়।’
এ প্রকল্পের ক্ষেত্রেও যেন তেমনটা না ঘটে এবং রোপণকৃত ৩৫ হাজার চারা যেন সঠিকভাবে বড় হতে পারে, সেজন্য ব্র্যাক কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও সাধারণ জনগণ।