Tuesday 18 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ / বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এড়াতে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান

ডিস্ট্রিক্ট করেসপনডেন্ট
২ জুলাই ২০২৬ ২৩:২১ | আপডেট: ৩ জুলাই ২০২৬ ১০:০৭

পঞ্চগড়: পঞ্চগড় সদর উপজেলার গড়িনাবাড়ী ইউনিয়নের কাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বৃষ্টি হলেই পাঠদান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং তীব্র রোদে খোলা মাঠে বসে ক্লাস করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

জানা গেছে, বিদ্যালয়টির জরাজীর্ণ ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল, ছাদের প্লাস্টার খসে পড়া এবং রড বেরিয়ে আসায় যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়রা। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে ভবনের ভেতরে পাঠদান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠে গাছের ছায়ায় বসিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন শিক্ষকরা। শ্রেণিকক্ষের পরিবর্তে খোলা পরিবেশেই চলছে ক্লাস কার্যক্রম। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে বই-খাতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়। আবার প্রচণ্ড রোদের কারণে অনেক সময় পাঠদান বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। সম্প্রতি বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষের ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ে, রড বেরিয়ে আসে এবং ভবনের বিভিন্ন অংশে বড় ধরনের ফাটল দেখা দেয়। এরপরই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়শা বলে, ‘রোদে ক্লাস করতে খুব কষ্ট হয়। বৃষ্টি এলেই বই-খাতা নিয়ে অন্য জায়গায় দৌড়ে যেতে হয়। ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছি না।’

একই শ্রেণির শিক্ষার্থী ওমর ফারুক বলে, ‘ক্লাসরুম না থাকায় বাইরে বসে পড়তে হয়। বৃষ্টি বা রোদ হলে ক্লাস করা যায় না। আমাদের দ্রুত নতুন ভবন দরকার।’

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবিকের বাবা নুর জামাল বলেন, ‘শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠানো যায় না, আবার খোলা মাঠেও নিয়মিত ক্লাস সম্ভব নয়। দ্রুত নিরাপদ শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করা উচিত।’

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরফিনা বেগম বলেন, ‘খোলা মাঠে ব্ল্যাকবোর্ড ছাড়াই পাঠদান করতে হচ্ছে। লিখিত কাজ করানোও সম্ভব হচ্ছে না। বৃষ্টি বা অতিরিক্ত রোদে ক্লাস বন্ধ রাখতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের শেখার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে সীমিত পরিসরে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। তবে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। দ্রুত একটি অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ এবং নতুন ভবন নির্মাণ প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মো. শুকরিয়া পারভিন বলেন, ‘বিদ্যালয়ের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত একটি অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে শিগগিরই চাহিদাপত্র পাঠানো হবে।’

সারাবাংলা/এসএস