বেনাপোল: কলকাতার আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৬ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরেছে। এর মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে এবং সাতক্ষীরার বাসিন্দা এস এম আলিমুজ্জামানের মরদেহ ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে আনা হয়েছে। নিহত আরেক বাংলাদেশি রেবতী সরকারের মরদেহ পরিবারের ইচ্ছায় ভারতেই সৎকার করা হবে।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দুই দেশের কূটনৈতিক ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তের শূন্যরেখায় ৫ বাংলাদেশির মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় বিজিবি ও বিএসএফের স্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মরদেহ হস্তান্তরের সময় স্বজনদের কান্নায় সীমান্ত এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বেনাপোলের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩টি অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ নিয়ে স্বজনেরা কুষ্টিয়া ও সাভারের উদ্দেশে রওনা হন।
দেশে ফেরত আনা মরদেহগুলো হলো- কুষ্টিয়ার আড়ুয়াপাড়া এলাকার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তিন বছরের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত, দেবাশীষের শ্বশুর আকরাম হোসেন (৬৪), সাভারের আমিনবাজার এলাকার আহমেদ বাবু (৪০) এবং সাতক্ষীরার এস এম আলিমুজ্জামান।
এর আগে গত ১৯ আগস্ট ভোরে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে এবং একজনের মরদেহ ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরানো হয়।
মরদেহ নিতে আসা আহমেদ বাবুর মেজো ভাই মনির হোসেন বলেন, সোমবার রাতে ব্যবসায়িক কাজে কলকাতা যান তার ভাই। সেখানে পৌঁছানোর পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। তবে হোটেলে আগুন লাগার পর থেকে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বুধবার দুপুরে ভারতীয় হাইকমিশন থেকে মোবাইল ফোনে বাবুর মৃত্যুর খবর জানানো হয়। পরে হাইকমিশন থেকে পাঠানো ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে শনাক্ত করেন।
মনির হোসেন বলেন, কাগজপত্রের জটিলতার কারণে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে কিছুটা দেরি হয়েছে। শনিবার রাতেই বাবুর মরদেহ দাফন করা হবে।
এদিকে দেবাশীষ দত্ত ও তার ছেলে স্বর্ণশীষ দত্তের মরদেহ হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সৎকার করা হবে। দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমীন ও শ্বশুর আকরাম হোসেনের মরদেহ ইসলামি রীতি অনুযায়ী দাফন করা হবে।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফেরদৌস হোসেন বলেন, মরদেহ গ্রহণের পর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তা স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, চিকিৎসা ও অন্যান্য কাজে ভারতে গিয়ে নিথর মরদেহ নিয়ে দেশে ফেরার সময় স্বজনদের কান্না-আহাজারিতে সীমান্ত এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।