ঢাকা: নানা ধর্মীয় আচার ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে রাজধানী ঢাকায় নয় দিনব্যাপী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ৮টায় রাজধানীর ইসকন স্বামীবাগ আশ্রমে বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণ কামনায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞের মধ্য দিয়ে এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
বিকেল ৩টায় স্বামীবাগ আশ্রম থেকে জগন্নাথ, বলদেব ও শুভদ্রার তিনটি সুবিশাল ও অত্যাধুনিক ফোল্ডিং রথ নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। বর্ণাঢ্য এ শোভাযাত্রাটি জয়কালী মন্দির, শাপলা চত্বর, পল্টন মোড়, সচিবালয় মেট্রো স্টেশন, জাতীয় প্রেস ক্লাব, হাই কোর্ট, দোয়েল চত্বর, শহীদ মিনার ও পলাশীর মোড় হয়ে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়। রথযাত্রা উপলক্ষ্যে রাজপথে লাখো ভক্তের ঢল নামে এবং চারদিক হরিনাম সংকীর্তনে মুখরিত হয়ে ওঠে। এ সময় রথ থেকে ভক্তদের মাঝে প্রসাদস্বরূপ বিভিন্ন ফলমূল বিতরণ করা হয়। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) বাংলাদেশ এই বর্ণাঢ্য রথযাত্রা উৎসবের আয়োজন করেছে।
রথযাত্রা শুরুর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও শুভ উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শ্রী বিজন কান্তি সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ. বি. এম. আব্দুস সাত্তার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান শ্রী তপন চন্দ্র মজুমদার এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি শ্রী গোকুল ভি. কে.। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয় তিথিতে এই রথযাত্রা শুরু হয় এবং আগামী ২৪ জুলাই শুক্রবার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে উল্টো রথযাত্রার মাধ্যমে পুনরায় স্বামীবাগ আশ্রমে ফিরে আসার মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস যে জগন্নাথ দেবই জগতের নাথ বা অধীশ্বর এবং রথে থাকা জগন্নাথ দেবকে দর্শন করলে মানুষ পুনর্জন্মের চক্র থেকে মুক্তি পায়। এই বিশ্বাস থেকেই প্রতি বছর অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে রথযাত্রা উৎসব উদযাপিত হয়।
ইসকন বাংলাদেশের সভাপতি সত্যরঞ্জন বাড়ৈ এবং সাধারণ সম্পাদক নিতাই স্বামী উৎসবের সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা বিষয়ে বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
সত্যরঞ্জন বাড়ৈ জানান, প্রতিবছরের ন্যায় এবারও রথযাত্রা থেকে উল্টো রথযাত্রা পর্যন্ত প্রতিদিন বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘শোভাযাত্রার প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং দীর্ঘ পথে ভক্তদের তৃষ্ণা মেটাতে পর্যাপ্ত পানীয় জলের সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’
নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস পাওয়া গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি বিভিন্ন বাহিনীর পাশাপাশি ইসকনের নিজস্ব পোশাক পরিহিত প্রায় পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক পুরো রথযাত্রা উৎসবজুড়ে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করছেন।’
এই উৎসবের প্রধান সমন্বয়ক শ্রীমৎ ভক্তিময় নিতাই স্বামী তিনটি সুবিশাল রথে দেব-দেবীদের আরোহণের কথা উল্লেখ করে সব ভক্তকে উৎসবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। আগামী ২৪ জুলাই উল্টো রথযাত্রার পূর্ব পর্যন্ত প্রতিদিন স্বামীবাগ আশ্রমে শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের লীলাকথা, শিশুদের মাঝে প্রতিযোগিতামূক অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পদাবলী ও ভজন-কীর্তন, বৈদিক নাটক এবং মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে।