চট্টগ্রাম: ফটিকছড়ি উপজেলায় নবগঠিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর দফতর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদ।
বুধবার(১৫ জুলাই)দুপুরে উপজেলার হেয়াকো বাজারে সমন্বয় পরিষদ আয়োজিত জরুরি এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা করেন কমিটির সমন্বয়ক নুরুল আমিন আজাদ ও মনির হায়দার। দাঁতমারা, বাগানবাজার ও নারায়ণহাট ইউনিয়নে এ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
সমন্বয়ক নুরুল আমিন আজাদ বলেন, ‘আমাদের দাবি যৌক্তিক স্থানে নতুন উপজেলার কার্যালয় স্থাপন। এই দাবিতে আগামীকাল সকাল-সন্ধ্যা তিন ইউনিয়নে হরতাল আহ্বান করেছি।’
ফটিকছড়িকে দু’টি উপজেলায় ভাগ করার দাবি দীর্ঘদিনের। ২০২৩ সালে এ জন্য গণশুনানির আয়োজন করেছিল জেলা প্রশাসন। গণশুনানির পর তৎকালীন ইউএনও মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদনও পাঠান।
ওই গণশুনানির পর সরেজমিনে পরিদর্শন করে স্থানীয়দের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে উত্তরের পাঁচটি ইউনিয়নের সমন্বয়ে গঠিত উত্তর উপজেলা সদর নারায়ণহাট দাঁতমারার মধ্যবর্তী স্থানে জুজখোলা মৌজায় স্থাপনের জন্য প্রস্তাবনা পাঠান হয়।
ফটিকছড়ির উত্তরাঞ্চলের ছয়টি ইউনিয়ন- বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট, ভূজপুর, হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল নিয়ে সম্প্রতি গঠিত হয়েছে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা।
নুরুল আমিন আজাদ বলেন, ‘স্বার্থান্বেষী একটি মহলের মাধ্যমে প্রশাসনের গুটিকয়েক কর্মকর্তা প্রভাবিত হয়ে উত্তর উপজেলা সদর দফতর ভুজপুরে স্থাপনের জন্য নতুন করে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়। সেখানে হলে আমাদের জন্য অনেক দূরে হয়ে যায়।’
আন্দোলকারীরা প্রস্তাবিত উপজেলার সদর নারায়ণহাট ও দাঁতমারা ইউনিয়নের মর্ধ্যবর্তী স্থানে চান। বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে পরিষদ নেতারা জানান, ১০ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। এরই মধ্যে ঘোষিত কর্মসূচিগুলো শান্তিপূর্ণভাবে পালন করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দফতর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবি জানানো হলেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা না যাওয়ায় হরতালের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হরতাল চলাকালে দাঁতমারা, বাগানবাজার ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, ওষুধের দোকানসহ সকল জরুরি সেবা এবং চলমান পরীক্ষার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হরতালের আওতার বাইরে থাকবে। এছাড়া বিদেশগামী যাত্রী ও পরীক্ষার্থীদের বহনকারী যানবাহন হরতালের আওতামুক্ত থাকবে।
হরতাল আহ্বানকারীরা আরও জানান, কর্মসূচির সময় ফেনী-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং গহিরা-হেয়াকো সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের সমন্বয়ক মো. বেলাল হোসেন, জামায়াত নেতা নুরুল আলম, সাইফুল ইসলাম, কামাল উদ্দিন, নুরুল আবসার, মো. আনিস, জামাল হোসেন, মো. ইব্রাহীম, শাহাদাত হোসেন, মোহাম্মদ আলমগীর, শফিউল আলম প্রমুখ।