ঢাকা: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলের প্রভোস্ট ড. আনজুমান আরার বিরুদ্ধে নিকাব পরা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের এক শিক্ষার্থী।
সোমবার (৬ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ওই শিক্ষার্থী অভিযোগটি তোলেন। তার দাবি, একটি প্রয়োজনীয় কাজে তিনি হল প্রভোস্টের কার্যালয়ে গেলে নিকাব পরা নিয়ে এমন কিছু মন্তব্য করা হয়, যা তাকে অপমানিত ও বিব্রত করেছে।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘প্রভোস্ট তাকে বলেন- ফাজলামো করতে আসছো? মুসলিমদের এভাবে পর্দা করতে হবে সেটা ইসলামে কোথায় লেখা আছে দেখাও? পর্দা করতে চাইলে হাতমোজা পরবা, মুখ ঢাকতে হবে কেন?’
এ বিষয়ে শিক্ষার্থী বলেন, ‘যদি অফিসে মুখ ঢেকে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো প্রশাসনিক নিয়ম থেকে থাকে, তাহলে সেটি জানিয়ে আমাকে মুখ খুলতে বলা যেত। আমি আগে ভাইভা দিতে গিয়ে মুখ না খোলার কারণে বকা খেলে সেটিও মেনে নিতাম। কিন্তু ইসলামের পর্দা নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য আমাকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, প্রত্যেকের ধর্মীয় বিশ্বাস, ব্যক্তিগত পোশাক ও স্বাধীন পছন্দের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা উচিত। আমি চাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী যেন ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত পোশাকের কারণে অস্বস্তিকর মন্তব্যের শিকার না হন এবং সবাই যেন সম্মানজনক পরিবেশে নিজের কথা বলতে পারেন।’
তবে শিক্ষার্থীর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হল প্রভোস্ট ড. আনজুমান আরা। তিনি বলেন, ‘এই ইস্যুতে আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফ্রেমিং করা হচ্ছে। ছাত্রীহলের প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীই পর্দা করেন। আবার ছাত্রীসংস্থার কোনো শিক্ষার্থী কেন তুলি এসব নিয়েও আমাকে নানা কথা শুনতে হয়। অথচ আমি কোনো দল বা মতাদর্শ বিবেচনা করি না; যার প্রকৃত প্রয়োজন, তাকেই সিট দেওয়ার চেষ্টা করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে বক্তব্যটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে, সেটি আমি আমার কক্ষের ভেতরে বলেছিলাম। আমার কথা ছিল, ভাইভা নেওয়ার সময় শিক্ষার্থীর মুখ না দেখলে তাকে কীভাবে শনাক্ত করব? তাই বলেছিলাম, আমার কক্ষের ভেতরে ভাইভার সময় এতটা পর্দার প্রয়োজন নেই। কিন্তু এই কথাটিকেই বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে ভিন্ন অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’