Monday 24 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ভেঙে পড়ল রাবির শতবর্ষী কৃষ্ণচূড়া গাছ

রাবি করেসপন্ডেন্ট
২৪ আগস্ট ২০২৬ ২৩:৪৫

ভেঙে পড়ল রাবির শতবর্ষী কৃষ্ণচূড়া গাছ

রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শুধু শিক্ষা ও গবেষণার জন্যই নয়, তার সবুজ-শ্যামল পরিবেশের জন্যও শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত। ক্যাম্পাসের বিস্তীর্ণ সবুজের মাঝে পুরোনো গাছগুলো যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের নীরব সাক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ছায়া দেওয়া এমনই একটি গাছ এবার ভেঙে পড়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ভেঙে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বিজ্ঞান ভবনের সামনে অবস্থিত সেই ছায়াদানকারী কৃষ্ণচূড়া গাছটি।

কৃষ্ণচূড়া গাছটি শুধু একটি গাছ ছিল না; ছিল ক্যাম্পাসের এক টুকরো স্মৃতি। রোদে ঘেমে ও বৃষ্টিতে ভিজে ক্লান্ত শিক্ষার্থীরা তার ছায়ায় বসেছেন। কেউ বই খুলে পড়েছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে গল্পে মেতেছেন। পরীক্ষার ব্যস্ততার ফাঁকে কিংবা ক্লাস শেষে অনেকেরই একটু স্বস্তির জায়গা ছিল এই গাছের ছায়া।

বিজ্ঞাপন

কৃষ্ণচূড়ার মৌসুমে দৃশ্যটা হয়ে উঠত আরও অন্যরকম। সবুজ পাতার ফাঁকে ফুটে থাকা লাল ফুলে গাছটি যেন পুরো ক্যাম্পাসেরই এক আলাদা সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে উঠত। সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করেছেন অসংখ্য শিক্ষার্থী। কেউ হয়তো ছবি তুলেছেন প্রিয়জনের সঙ্গে, কেউবা একা দাঁড়িয়ে স্মৃতিতে ধরে রেখেছেন গাছটির সৌন্দর্য।

সময়ের সঙ্গে গাছটির বয়স বেড়েছে। কাণ্ডে এসেছে বার্ধক্যের ছাপ, ডালপালা হয়েছে দুর্বল। তবুও ক্যাম্পাসের ব্যস্ততার মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিল সে। নতুন প্রজন্ম এসেছে, পুরোনো প্রজন্ম বিদায় নিয়েছে কিন্তু কৃষ্ণচূড়াটি থেকে গেছে সেই একই জায়গায়। তাই এটি অনেকের কাছে একটি গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনা নয়; বরং ক্যাম্পাসের একটি স্মৃতির অধ্যায়ের সমাপ্তি।

গাছটি ভেঙে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শিক্ষার্থীদের অনেকে সেখানে ছুটে যান। কেউ বিস্মিত হয়ে দেখেছেন তার বিশাল কাণ্ড, কেউ মোবাইল ফোনে ধারণ করেছেন শেষ দৃশ্যটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই গাছটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা পুরোনো স্মৃতি তুলে ধরেছেন।

জুবায়ের রহমান নামের একজন শিক্ষার্থী গাছটির স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমরা যারা প্রথম বিজ্ঞান ভবনের শিক্ষার্থী আছি তাদের কষ্টটা একটু বোধহয় বেশি। এইতো কয়েকদিন আগেই আমরা এখানে প্রোগ্রাম করলাম। ডিপার্টমেন্টে যত ধরনের অনুষ্ঠান হোক এখানে এসেই ছবি তুলি। প্রতিদিন বিল্ডিংয়ে ঢুকার আগে পরে চোখে পরে। এতো এতো স্মৃতি কিভাবে ভুলি?’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ক্যাম্পাসের একটা জীবন্ত প্রাণ ও ইতিহাসের একটা অংশ চিরতরে হারিয়ে গেল। থমকে যাওয়া এই ডালে ডালে আজও লেগে আছে অজস্র শিক্ষার্থীর স্মৃতির মায়া।’

মুবতাসির ফুয়াদ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ক্যাম্পাসের সবচেয়ে প্রিয় শতবর্ষী কৃষ্ণচূড়া গাছটা ভেঙে পড়েছে। প্রেমিকা মারা গেলে হয়ত এত বেশি দুঃখ হতো না। এই কৃষ্ণচূড়া গাছটা ঘিরে বর্ষা উৎসব করতে চেয়েছিলাম। এই রাস্তাটা দিয়ে আর হাটবো কিভাবে! কিভাবে তাকাবো এই অনুপস্থিতির দিকে!’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাবরিনা নাজ বলেন, ‘কৃঞ্চচুড়া গাছটি অত্যন্ত সুন্দর একটি গাছ ছিল। এই গাছটির নিচে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এত ছবি তুলেছে যে, এটা এতটাই জনপ্রিয় ছিল। গাছটার গড়নও খুব সুন্দর ছিল। গাছটাকে দেখে কখনও মনে হয়নি যে এটা ভেঙে পড়ে যাবে। ক্যাম্পাসের অন্যান্য বয়স্ক কৃঞ্চচূড়া গাছগুলোর চেয়ে এ গাছটির গঠনও আলাদা ছিল। আসলে এটা আমাদের দূর্ভাগ্য যে, আমরা এমন একটা সুন্দর গাছ হারালাম।’

একটি গাছ পড়ে গেছে। কিন্তু তার সঙ্গে পড়ে যায়নি তার স্মৃতিগুলো। লাল কৃষ্ণচূড়ার ফুলে, পুরোনো ছবিতে আর অসংখ্য শিক্ষার্থীর গল্পে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ছায়া দেওয়া সেই গাছটি হয়তো বেঁচে থাকবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতির পাতায়।

সারাবাংলা/এনএমই/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর