দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে রাজনৈতিক এক মধ্যস্থতাকারীর কাছ থেকে অবৈধভাবে বিনামূল্যে জনমত জরিপের সেবা নেওয়ার অভিযোগে ২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।
সোমবার (১৩ জুলাই) দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
আদালতের রায়ে বলা হয়, ইউন সুক-ইওল রাজনৈতিক এক মধ্যস্থতাকারীর কাছ থেকে প্রায় ২৭ কোটি ওন (প্রায় ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলার) মূল্যের ১৪ দফা জনমত জরিপের সেবা বিনামূল্যে গ্রহণ করে রাজনৈতিক তহবিল আইন লঙ্ঘন করেছেন।
রায়ে আরও বলা হয়, ওই জরিপের বিনিময়ে একজন সাবেক সংসদ সদস্যের দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে নিজের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েছিলেন ইউন। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি কখনো এমন কোনো জরিপের অনুরোধ করেননি এবং এর বিনিময়ে কাউকে কোনো প্রতিশ্রুতিও দেননি।
আদালতের এই রায় সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কোন-হিকে ঘিরে দেওয়া আগের কয়েকটি রায়ের সঙ্গে ভিন্নতা তৈরি করেছে। পূর্ববর্তী রায়গুলোতে বলা হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট জরিপ সেবার সঙ্গে কোনো ধরনের পারস্পরিক সুবিধা বা রাজনৈতিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আদালত জানিয়েছে, এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
৬৫ বছর বয়সী ইউন সুক-ইওল বর্তমানে একাধিক আইনি মামলার মুখোমুখি। ২০২৪ সালে স্বল্প সময়ের জন্য সামরিক আইন জারির ঘটনায় অভ্যুত্থানের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সেই রায়ের বিরুদ্ধেও তিনি আপিল করেছেন।
এ ছাড়া, গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার সুপ্রিম কোর্ট তাকে গ্রেফতারের প্রচেষ্টায় বাধা দেওয়ার মামলায় ৭ বছরের কারাদণ্ড বহাল রাখে। ফলে সাবেক এই প্রেসিডেন্ট বর্তমানে একাধিক মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন।