Wednesday 01 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সুপ্রিম কোর্টে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল

স্টাফ করেসপন্ডেট
২১ মে ২০২৬ ১৩:১৯ | আপডেট: ২১ মে ২০২৬ ১৫:১৪

ছবি: সংগৃহীত।

ঢাকা: বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেওয়া হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

এর আগে, গত ৭ এপ্রিল বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন। রায়ে তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

রায়ে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তাব অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একইসঙ্গে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ, বদলি, পদোন্নতি, ছুটি ও শৃঙ্খলাবিষয়ক ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের অধীনে থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

রিটকারীদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেওয়া আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, এই রায়ের ফলে নিম্ন আদালতের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রপতির পরিবর্তে সুপ্রিম কোর্টের কাছে ন্যস্ত হবে।

হাইকোর্ট রায়ে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে ১৯৭২ সালের মূল বিধান পুনর্বহাল করেন। ওই মূল বিধানে বিচার বিভাগে কর্মরত বিচারক ও ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধানের ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে ছিল।

বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী এসব ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত, যা সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে প্রয়োগ করা হয়। ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এ ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির কাছে যায় এবং পরে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এতে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা যুক্ত করা হয়।

হাইকোর্ট তার রায়ে বলেন, চতুর্থ ও পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদে আনা পরিবর্তন সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই তা বাতিল করে ১৯৭২ সালের বিধান পুনর্বহাল করা হবে।

এ ছাড়া ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালাকেও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করেছেন আদালত।

উল্লেখ্য, পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাদ্দাম হোসেনসহ সাতজন আইনজীবী রিট দায়ের করেন। পরে রুল জারি করে শুনানি শেষে হাইকোর্ট এই রায় দেন।