ঢাকা: রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি রাজা বাদশা ওরফে পিচ্চি রাজার জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। তবে তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা থাকায় আপাতত কারামুক্ত হতে পারছেন না তিনি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে ঢাকার ১৯তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মমিনুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আদালতের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ সহকারী তাইজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার বাদী ও আসামিপক্ষের মধ্যে আপস-মীমাংসা হওয়ায় আদালত জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন। তবে পিচ্চি রাজার বিরুদ্ধে অন্যান্য মামলায় গ্রেফতারি ও বিচারাধীন কার্যক্রম থাকায় তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় নবী আলমের স্ত্রী মিষ্টি বেগমকে আসামিরা কটূক্তি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানার পর সেদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে নবী আলম ও তার স্বজনরা একটি দোকানের সামনে গিয়ে এর প্রতিবাদ করেন।
এ সময় আসামিরা নিজেদের প্রভাবশালী দাবি করে তাদের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কাউকে জবাবদিহি করবেন না বলে জানায়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির পর হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলার সময় প্রধান আসামি পিচ্চি রাজা ধারালো সামুরাই দিয়ে নবী আলমের মাথায় কোপ দেন, এতে তিনি গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় টিপু নামে একজনের কপাল এবং সজিব নামে আরেক ব্যক্তির চোখের ভ্রুর ওপর ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে। আহতদের উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে ফেকু নামে আরও একজনকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী নবী আলমের ভাই মোহাম্মদ সেন্টু বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।
এর আগে গত ২০ মে মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষ মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত রাজা বাদশা ওরফে পিচ্চি রাজাকে গ্রেফতার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, পিচ্চি রাজার বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, মাদক ও বিস্ফোরক আইনের মামলাসহ মোট ২৯টি মামলা রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মোহাম্মদপুর ও জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। একাধিকবার গ্রেফতার হলেও জামিনে মুক্ত হয়ে আত্মগোপনে চলে যান তিনি।
পরে গত ২০ মে নেপাল থেকে দেশে ফেরার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।