Tuesday 30 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

১০ বছরের সাজাকে ‘ফরমায়েশি রায়’ বললেন ইনু

স্টাফ করেসপন্ডেট
৩০ জুন ২০২৬ ১৬:১৭ | আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ১৯:০৫

সাজাপ্রাপ্ত আসামি হাসানুল হক ইনু।

ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রায় ঘোষণার পর আদালত থেকে বেরিয়ে তিনি এ রায়কে ‘ফরমায়েশি’ বলে মন্তব্য করেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ইনু বলেন, ‘জিয়াউর রহমান সাজা দিয়েছিল। তার ছেলে তারেক রহমানও সাজা দিয়েছে। এটি প্রহসনের আদালতের ফরমায়েশি রায়।’

বিজ্ঞাপন

এর আগে, গত ২২ জুন মামলাটির রায়ের জন্য ৩০ জুন দিন ধার্য করা হয়। আর ১৪ মে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও ফারুক আহাম্মদ। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী ও সিফাত মাহমুদ।

প্রসিকিউশনের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে ইনুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাদের মতে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্দোলন দমনে উসকানি ও প্ররোচনা দেন ইনু এবং আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে সংঘটিত অপরাধের জন্য তার ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায়ও রয়েছে। এ কারণে প্রসিকিউশন তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করে।

শুনানিতে প্রসিকিউশন শেখ হাসিনা ও ইনুর মধ্যে হওয়া একটি টেলিফোন কথোপকথনের রেকর্ডও আদালতে উপস্থাপন করে। তাদের দাবি, ওই কথোপকথনে ইনু গণআন্দোলনকে ‘জঙ্গিবাদ’ আখ্যা দিয়ে কঠোরভাবে দমনের পক্ষে মত দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, উপস্থাপিত কথোপকথনে আন্দোলন দমনে গুলি চালানো, বোমাবর্ষণ, নির্যাতন কিংবা এ ধরনের কোনো নির্দেশ বা উসকানিমূলক বক্তব্য নেই। প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত নথিতেও এমন কোনো প্রমাণ নেই বলে দাবি করে তারা ইনুর খালাস প্রার্থনা করেন।

মামলাটিতে গত বছরের ১ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এর আগে, ২৫ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশন ইনুর বিরুদ্ধে আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিল করলে ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট হাসানুল হক ইনু গ্রেফতার হন। পরে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এ ছাড়া, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে নিজ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।