Thursday 02 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

স্বাধীনতার পর এমন জনকল্যাণমুখী বাজেট হয়নি: চিফ হুইপ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২ জুলাই ২০২৬ ১৭:১৮

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, বর্তমান সরকারের প্রণীত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তনের এক অনন্য দলিল। স্বাধীনতার পর এমন জনকল্যাণমুখী ও জীবনঘনিষ্ঠ বাজেট আর কখনও পাশ হয়নি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনপ্রিয় মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে জীবনমুখী পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প গ্রহণ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু উপস্থিত ছিলেন।

চিফ হুইপ বলেন, এ বাজেট জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এটা মানুষের বাজেট, জনবান্ধব বাজেট এবং জনগণের কল্যাণ ও তাদের বাঁচিয়ে রাখার বাজেট।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, আমরা উত্তরাধিকারসূত্রে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি। আমরা দেখেছি যে, একদিনে ডলারের দাম ৭ টাকা বেড়েছে। কয়েকটি ব্যাংক মারাত্মক সংকটে পড়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে হাজার হাজার কোটি টাকা সহায়তা দিতে হয়েছে। অতীতের অনিয়ম, আর্থিক বিশৃঙ্খলা ও মেগা প্রকল্পের নামে দুর্নীতির প্রভাব এখনো অর্থনীতিতে রয়ে গেছে। এ কারণেই সরকার কেবল অবকাঠামো নির্মাণ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য হলো শুষ্ক মৌসুমে কৃষিতে পানির নিশ্চয়তা করা এবং দেশের সার্বিক পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করা। এগুলো শুধু প্রদর্শনমূলক প্রকল্প নয়, এগুলো মানুষের প্রয়োজন পূরণের প্রকল্প। ২৫ কোটি গাছ রোপণ, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, নারীদের জন্য বিশেষ কার্ড, প্রবাসী সেবা এবং স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো মানুষ যেন না খেয়ে না থাকে, মানুষের জীবনমান উন্নত হয় এবং তারা স্বাবলম্বী হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম বিরোধীদল বাজেট আলোচনায় অত্যন্ত ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেছে। স্বাধীনতার পর এই প্রথম বিরোধীদল বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় আগাম অংশগ্রহণ করেছে। বিরোধীদলকে মোট ২৬ শতাংশ সময় বরাদ্দ দেওয়া হলেও আমরা সময় বাড়িয়ে দিয়েছি এবং তারা প্রায় ৩১ শতাংশ সময় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। বিরোধীদলীয় নেতার অনুরোধে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিক সাইকেলের ওপর প্রস্তাবিত কর প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন, যা সরকার ও বিরোধীদলের সম্মিলিতভাবে দেশ গড়ার আন্তরিক মানসিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ৬৩টি আইটেমে কোনো কর বৃদ্ধি করা হয়নি। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় প্রায় ৫০ লাখ ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মায়েদের আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জুলাই আন্দোলনের তরুণ যোদ্ধাদের সাহস, ত্যাগ ও দেশপ্রেমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এদেশের যুব সমাজ অত্যন্ত দৃঢ়, অত্যন্ত সাহসী এবং অত্যন্ত দেশপ্রেমী। জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে যারা নিহত হয়েছেন তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং যারা আহত হয়েছেন তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। সংবিধান সংশোধনের কোনো বিকল্প নেই। যে কোনো ধরনের সংস্কার আনতে হলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। আশা করি আমরা সবাই মিলে এই সংশোধনী আনতে পারব।

সারাবাংলা/এফএন/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর