ঢাকা: বন্যা ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকার, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় আয়োজিত বন্যা ও জলাবদ্ধতায় রাজপথে গণশুনানি শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, বছরের পর বছর হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ও ব্যয়ের দাবি করা হলেও সামান্য বৃষ্টিতেই রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনের ক্ষেত্রে বিগত আওয়ামী লীগ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের আচরণে কোনো মৌলিক পার্থক্য দেখা যায়নি এবং ৩ সরকারের কাছ থেকেই জনগণ আশানুরূপ উদ্যোগ পায়নি। এ খাতে বরাদ্দের অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে তা জানতে শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার জোর দাবি জানান তিনি।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে বাজেটে বিপুল অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেই অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় করা হয়নি। জনগণের টাকায় নেওয়া প্রকল্পের অর্থ কোথায় গেল তার হিসাব দ্রুত জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, সচিব, ঠিকাদার এবং মেয়রদের নাম প্রকাশ করে শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে এবং যারা জবাব দিতে ব্যর্থ হবে তাদের বিরুদ্ধে আগামী দিনে রাজপথে আন্দোলন ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ঢাকায় আবারও জলাবদ্ধতা তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে জবাব দিতে বাধ্য করার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বৃষ্টি বা বন্যা হলে ধনী মানুষ ঘরে বসেই অনেক কাজ সম্পন্ন করতে পারেন কিন্তু একজন রিকশাচালক, দিনমজুর, শ্রমিক কিংবা শিক্ষার্থীর জীবিকার তাগিদে ঘর থেকে বের হতেই হয়। বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব এবং গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকার ফলে কৃষিজমির ফসল নষ্ট হয়ে কৃষকেরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন মেয়াদের সরকারি বরাদ্দের হিসাব তুলে ধরে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় রাষ্ট্র কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এ খাতে ১৬ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল যার মধ্যে প্রায় ১৩ হাজার ৪ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও এ খাতে ৩৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে এবং চলতি অর্থবছরে বর্তমান বিএনপি সরকার এ খাতে ২ হাজার ২৬০ কোটি ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, এত বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ ও ব্যয়ের পরও সামান্য বৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকা পানিতে ডুবে যায় এবং চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বাস্তবে এই বিপুল অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হলে স্থায়ী সমাধান অনেক আগেই সম্ভব হতো কিন্তু বাস্তব চিত্র তার সম্পূর্ণ বিপরীত।
তিনি আরও বলেন, এই বিপুল অর্থ কোথায় গেল এবং কারা এর সুবিধাভোগী হয়েছে তা নিয়ে জনগণের মনে প্রশ্ন উঠেছে। জনগণের অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে এবং এ খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের নাম-পরিচয়সহ শ্বেতপত্র প্রকাশ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
রাজধানীর বিজয়নগরে আয়োজিত এই গণশুনানিতে রাজনৈতিক কর্মী, শিক্ষক, প্রবাসী, গাড়িচালক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। গণশুনানিতে অংশগ্রহণকারী সাধারণ মানুষ নিজেদের এলাকার বন্যা ও জলাবদ্ধতার দুর্ভোগের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। সাধারণ নাগরিকেরা পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দ্রুত উন্নয়ন, খাল ও নদী দখলমুক্ত করা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ তুলে ধরেন। আলোচনা সভায় উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বরাদ্দের অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।