ঢাবি: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ‘রাষ্ট্রদর্শন’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বইটির মেড়ক উন্মোচন হয়।
এ সময় ‘সেন্টার ফর রিসার্চ ফর ন্যাশনালিজম অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ প্রতিষ্ঠানটিরও যাত্রা শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, গাইবান্ধা-৪-এর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মানসুরা আলম, হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদসহ আরও অনেকেই।
হাবিবুর রশিদ বলেন, ‘গ্রন্থটি আমাদের রাষ্ট্রচিন্তার বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তিকে ধারণ করেছে, অন্যদিকে সেই চিন্তাকে গবেষণা, বিশ্লেষণ ও জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ, সমৃদ্ধ করার একটি প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার ব্যক্ত করছে। আমার ব্যক্তিগত পাঠ ও পর্যালোচনার অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের যে তাত্ত্বিক ভিত্তি এই গ্রন্থে নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে অভিনব, মৌলিক এবং ব্যতিক্রমধর্মী। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ নিয়ে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক আলোচনা পূর্বেও হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন, তার বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি, রাষ্ট্রচিন্তার সঙ্গে তার অন্তর্নিহিত সম্পর্ক এবং একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র নির্মাণে তার প্রাসঙ্গিকতাকে এত বিস্তৃতভাবে এবং আন্তঃবিষয়ক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপনের এমন প্রয়াস আমার জানামতে পূর্বে খুব কমই দেখা গিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এই গ্রন্থের অন্যতম মৌলিক অবদান হলো, এখানে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে কেবল একটি রাজনৈতিক মতবাদ বা স্লোগান হিসেবে নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রদর্শন হিসেবে ব্যাখ্যা করার প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়। এখানে জাতীয়তাবাদকে গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক মুক্তি, জনগণের ক্ষমতায়ন, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বয় করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই গ্রন্থের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলো, এটি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে একটি গবেষণার যোগ্য তাত্ত্বিক কাঠামোর মধ্যে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছে। ফলে বিষয়টি কেবল রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, জনপ্রশাসন, অর্থনীতি, নিরাপত্তা অধ্যয়ন এবং উন্নয়ন গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।’