Wednesday 01 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

স্টাফ করেসপন্ডেট
১৪ মে ২০২৬ ১৫:৩৩ | আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ ১৭:২১

– ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত

ঢাকা: অবহেলায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে। নিহত রোগীর নাম জিন্নাত আলী।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইলের আদালতে জিন্নাত আলীর ছেলে আবু হুরায়রা এ আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আদেশের জন্য আবেদনটি অপেক্ষমাণ রেখেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী মোকছেদুল হাসান মন্ডল।

মামলার আবেদনে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কয়েকজন ওয়ার্ডবয় এবং হৃদয় জেনারেল হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে রোগীকে ভুল তথ্য দিয়ে অন্য হাসপাতালে নেওয়া, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, চিকিৎসা বন্ধ রাখা এবং মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগে বলা হয়, অসুস্থ হয়ে পড়লে জিন্নাত আলীকে প্রথমে মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানো হলে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্মরত ওয়ার্ডবয় শহিদ রোগীর হার্টের সমস্যা নয়, মাথার সমস্যা রয়েছে বলে দাবি করেন এবং আইসিইউ প্রয়োজন জানিয়ে হৃদয় জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

পরে ওয়ার্ডবয়সহ কয়েকজন মিলে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে আবু হুরায়রার কাছ থেকে টাকা নিয়ে রোগীকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করান বলে অভিযোগ করা হয়। সেখানে ভর্তি হওয়ার পর বিভিন্ন পরীক্ষা ও ওষুধের কথা বলে কয়েক দফায় টাকা নেওয়া হয়।

আবেদনে আরও বলা হয়, পরে আবু হুরায়রার সন্দেহ হলে তিনি বাবাকে অন্যত্র নিতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিল পরিশোধ ছাড়া ছাড়তে অস্বীকৃতি জানায়। একপর্যায়ে তাকে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং রোগীর চিকিৎসাও বন্ধ রাখা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে টাকা পরিশোধের পর জিন্নাত আলী-কে আবার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নেওয়া হলে সেদিন বিকেলে তার মৃত্যু হয়।

এছাড়া পরবর্তী সময়ে হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে গেলে আবু হুরায়রা-কে হুমকি ও মারধর করা হয় বলেও মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয় বলেও দাবি করেছেন তিনি।