ঢাকা: বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের চলমান সংস্কার, খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, ব্যাংক পুনর্গঠন এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল। বৈঠকে আর্থিক খাতের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা উন্নয়নে দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
মঙ্গলবার (৩০ জুন)বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সৌজন্য সাক্ষাতে অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন, নির্বাহী পরিচালক মো. সরওয়ার হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে দেশের সাম্প্রতিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার কার্যক্রম, খেলাপি ঋণ কমানোর উদ্যোগ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অবস্থা, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর সঙ্গে চলমান কার্যক্রম এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গৃহীত বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি কয়েকটি ব্যাংকের চলমান পুনর্গঠন কার্যক্রম নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই পক্ষ।
বৈঠকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের সক্ষমতা উন্নয়নে কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রাখার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এ সময় গভর্নর বাংলাদেশের ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামো উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার পূর্ববর্তী কারিগরি সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার উদ্যোগ এবং ‘বাংলা কিউআর’-এর সাম্প্রতিক প্রচারণা কার্যক্রমের প্রশংসা করা হয়।
বৈঠকে উভয় পক্ষ অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আর্থিক খাতের আধুনিকায়ন, জ্ঞান বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস প্রোগ্রামের আওতায় অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের পেশাগত অবদান এবং দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে তাদের ভূমিকার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার অর্থনৈতিক ও আর্থিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ।