ঢাকা: স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়কে কেবল ব্যয় হিসেবে না দেখে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে একটি সমৃদ্ধশালী জাতি গঠনের বিনিয়োগ হিসেবে গ্রহণ করা সমীচীন বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন। মঙ্গলবার ৩০ জুন জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জন্য অনধিক ৪৯ হাজার ৩৮৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা মঞ্জুরের দাবি উত্থাপন করেন তিনি।
এ দাবির ওপর আলোচনা করতে গিয়ে স্বাস্থ্য খাতের নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রস্তাবিত বরাদ্দের ওপর মোট ৩৭ জন সংসদ সদস্য ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে সরকারি হাসপাতালে রোগীদের সেবা পাওয়ার ঘাটতি, চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন যে, সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের বিনামূল্যে যেসব ওষুধ পাওয়ার কথা তা অনেক সময় তারা পান না। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর দৌরাত্ম্য এবং রোগীদের ক্লিনিকে পাঠানোর যোগসাজশের কারণে সাধারণ মানুষ স্বল্পমূল্যে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিরোধী সদস্যদের ছাঁটাই প্রস্তাবের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্বাস্থ্যসেবা জনগণের কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং এটি জনগণের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার। একটি সুস্থ জনগোষ্ঠী ছাড়া উৎপাদনশীল অর্থনীতি, সামাজিক ন্যায়বিচার কিংবা টেকসই জাতীয় উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়কে শুধু ব্যয় হিসেবে না দেখে, দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধশালী জাতি গঠনের বিনিয়োগ হিসেবে গ্রহণ করাই সবার জন্য সমীচীন।
রুমিন ফারহানার ছাঁটাই প্রস্তাবের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উন্নয়ন করতে হলে অর্থের প্রয়োজন, আর এক টাকা তো ফকিরের ভিক্ষা। তিনি জানান যে, প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং প্রায় এক লাখ জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। কিডনি ডায়ালাইসিসসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিপুল অর্থের প্রয়োজন বিধায় ছাঁটাই প্রস্তাবটি গ্রহণ করা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।