Thursday 02 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি ও বদলির মাধ্যমে শূন্য পদ পূরণ হবে: শিক্ষামন্ত্রী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২ জুলাই ২০২৬ ১৫:৪৩

ঢাকা: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি ও বদলীকার্যক্রমে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে নতুন করে কার্যক্রম চালুর পথ উন্মুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

তিনি বলেন, আপিল বিভাগের রায়ে সরকারের পক্ষে সিদ্ধান্ত আসায় প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি, বদলি, শূন্য পদ পূরণ এবং নতুন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে সরাসরি নিয়োগ ও সহকারী শিক্ষক থেকে পদোন্নতি-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান ঘটেছে। তিনি বলেন, আপিল বিভাগ সরকারের করা আপিল মঞ্জুর করায় এ বিষয়ে বিদ্যমান অনিশ্চয়তা দূর হয়েছে এবং সরকারের অবস্থান বহাল রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, এ রায়ের ফলে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা যাবে, বদলি কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে প্রায় ৩২ হাজার ৫০০টি প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টি হবে। পদোন্নতির মাধ্যমে শূন্য হওয়া সহকারী শিক্ষক পদগুলোতে নতুন নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে, যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন পদোন্নতি কার্যক্রম স্থগিত থাকায় সারাদেশে প্রায় ৩২ হাজার ৫০০টি প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য হয়ে পড়ে। এতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম, পাঠদান, শ্রেণি তদারকি এবং সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। অনেক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছে, ফলে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের এই স্থবিরতার কারণে সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল। অনেক শিক্ষক পদোন্নতির সুযোগ না পেয়েই অবসরে গেছেন। একই সঙ্গে প্রায় ৬০ লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারের শিক্ষা উন্নয়ন কার্যক্রমেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, আপিল বিভাগের এ রায়ের ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা আরও সুসংহত হবে এবং শিক্ষা কার্যক্রমে গতি ফিরে আসবে। শিক্ষক সমাজে কর্মোদ্যম বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারের শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মামলার পটভূমিও তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, ২০১৭ সালে কয়েকজন শিক্ষক হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট আংশিক রায় দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে সরকার এবং শিক্ষক নেতাদের একটি অংশ আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন। আপিল বিভাগ প্রথমে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিলেও সর্বশেষ শুনানি শেষে সরকারের করা আপিল মঞ্জুর করেন। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা পদোন্নতি ও বদলি কার্যক্রম পুনরায় চালুর আইনি বাধা দূর হয়েছে।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি, বদলি এবং নতুন নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হবে। এর মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন গতি সৃষ্টি হবে এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাল ও এটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এনজে
বিজ্ঞাপন

দাম কমলো এলপিজির
২ জুলাই ২০২৬ ১৬:২২

আরো

সম্পর্কিত খবর