কক্সবাজার: ভরা বর্ষা মৌসুমেও পর্যটকদের ঢল নেমেছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে। গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে শুরু করে শুক্রবার (৩ জুলাই) পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কয়েক লাখ পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত এখন সৈকত শহর। বর্ষার উত্তাল সমুদ্র আর প্রকৃতির ভিন্ন রূপ উপভোগ করতেই মূলত এই সময়ে পর্যটকদের এই আগমন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে কক্সবাজারের সুগন্ধা, লাবণী ও কলাতলী পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে, চারদিকে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। কেউ সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালিতে মেতেছেন, কেউবা সৈকতের বালিয়াড়িতে দাঁড়িয়ে ফ্রেমবন্দি করছেন প্রিয় মুহূর্তগুলো।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক আসিফ বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে সমুদ্রের নিজস্ব চরিত্র ফুটে ওঠে। সমুদ্রের এই বিশালতা ও ধূসর মেঘের মিতালির প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতেই মূলত এই সময়ে আসা। তাছাড়া এ সময় হোটেল ভাড়াও বেশ কম পাওয়া যায়।’
পরিবার নিয়ে কুমিল্লা থেকে এসেছেন নজরুল ইসলাম। তিনি তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘পরিবার নিয়ে এসেছি, বেশ ভালো সময় কাটছে। অন্য সময়ের মতো চড়া রোদ নেই, আবার অতিরিক্ত যানজট বা চেনা কোলাহলও নেই। শান্ত পরিবেশে এমন সময়ে সমুদ্র দেখার মজাই আলাদা।’
ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণত বর্ষা মৌসুমকে পর্যটনের ‘অফ-সিজন’ বা মন্দা সময় বিবেচনা করা হলেও এবারের চিত্র ভিন্ন। হোটেল-মোটেল জোনের মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল কাসেম সিকদার বলেন, ‘আগের বছরগুলোর তুলনায় এবারের বর্ষায় মোটামুটি ভালো পর্যটক রয়েছে। হোটেলগুলোতে বুকিং আশাব্যঞ্জক। আশা করছি সামনের দিনগুলোও আমাদের ভালো যাবে।’
এদিকে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সমুদ্র সৈকতে নিরাপদ গোসল নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। বর্ষায় সমুদ্র উত্তাল থাকায় যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা মোকাবিলা করতে এবং পর্যটকদের সচেতন করতে লাইফগার্ড ও বিচকর্মীরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।