গাইবান্ধা: কর্মব্যস্ত জীবনে একটু প্রশান্তির ছোঁয়া পেতে সব বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে ব্রহ্মপুত্রের বুকচিরে নির্মিত আধা কিলোমিটার ক্রস বাঁধ। প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে নির্মল আনন্দের পরশ পেতে ও নদের সৌন্দর্য উপভোগ করতে গাইবান্ধার আশপাশের উপজেলাসহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন একসময়ের উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার তিস্তামুখ রেলওয়ে ফেরিঘাট, ব্রহ্মপুত্রের পারে অবস্থিত ৭১-এর বধ্যভূমি ও জেগে ওঠা চর-দ্বীপচরে। বিকেল থেকে সন্ধ্যার আগে পর্যন্ত নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী ও শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী দর্শণার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে এসব এলাকা।
শুক্রবার (৩ জুন) বিকেলে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদে বধ্যভূমি রক্ষা প্রকল্পের ক্রসবাঁধটি দীর্ঘ ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ১০০ ফুট এবং মাটির তলদেশ থেকে বাঁধটির উচ্চতা প্রায় ৩৫ ফুট। যা কি না দুইতলা ভবনের মত উঁচু। সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ভ্রমণ পিপাসুরা বেছে নিয়েছেন নতুন এ বাঁধকে। নদের পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদের দ্বিতল প্রশাসনিক ভবন ও ইউএনও’র বাসভবন। পাশেই তিস্তামুখঘাট ও বধ্যভূমি এলাকা। নদীভাঙন থেকে রক্ষায় নীলকুঠি এলাকা থেকে ৭১-এর বধ্যভূমি এলাকার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের পাড় বাঁধা হয়েছে সিসি ব্লক দিয়ে। সেখানে দর্শনার্থীদের বসার জন্য মাঝে মধ্যে তৈরি করা হয়েছে বেঞ্চ।

ছবি: সারাবাংলা
নৌকায় চড়ে ঘুরে বেড়ানোর পর ক্রসবাঁধে দাঁড়িয়ে সদর উপজেলার ধানঘড়া গ্রামের বেসরকারি চাকরিজীবী রফিক রহমান বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে আর চরে ঘুরে বেড়ানোর মজাটাই আলাদা। এখানে রয়েছে প্রকৃতির বিশালতা। নদীর বুক চিরে নির্মিত ক্রসবাঁধ যা আমাদের নজর কেড়েছে।’
কিছুটা দূরেই দাঁড়িয়ে অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করছিলেন গজারিয়া গ্রামের তরুণী আফরুজা আক্তার। তিনি বলেন, ‘ছুটিতে রাজশাহী থেকে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসেছি ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে। নির্মল বাতাসে বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার জন্য।’
স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এ এলাকায় তেমন দর্শনীয় স্থান নেই। সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষার পর সেখানে নদীর পার যেমন পর্যটন এলাকায় পরিণত হয়েছে। ঠিক তেমনিভাবে এ ক্রসবাঁধটি ফুলছড়িকে একধাপ এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছে। এখানে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন আসছেন বাঁধটি দেখতে।’
স্কুল শিক্ষক সামিউল হক জানান, এক সময় এখানে সব ছিল। নদীর করাল গ্রাসে ফুলছড়িবাসী সব হারিয়ে ফেলেছে। দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত লাভ করলে অনেকেই এটাকে ঘিরে ব্যবসা-বাণিজ্য করে সংসার চালাতে পারবে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘যমুনা নদীর ভাঙন থেকে ফুলছড়ি উপজেলাকে রক্ষা করার জন্য যে প্রকল্প আছে, এ প্রকল্পেরই অংশবিশেষ হলো গণকবর ক্রস বাধ। এ বাঁধ দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো নদীর স্রোতকে ডাইভার্ট করে দিয়ে করে অন্যদিকে প্রবাহিত করা। আর এ ক্রস বাধের কারণে বাধের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে চরে উর্বর আবাদী জমি তৈরি হবে।’
ফুলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আজহারুল হান্নান মন্ডল বলেন, ‘এটি একটি নদীভাঙন কবলিত এলাকা। এখানে যে বাধটি করা হয়েছে, এ কারণে এখানকার গণকবর, পুরাতন ফুলছড়িহাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা রক্ষা পাবে। দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত লাভ করলে অনেকেই এটাকে ঘিরে ব্যবসা-বাণিজ্য করে সংসার চালাতে পারবে।’