শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় নরওয়ের মুখোমুখি হত যাচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। চোট থেকে সেরে ওঠা সুপারস্টার নেইমার এদিন ব্রাজিলের শুরুর একাদশে থাকবেন কি না, সেটা নিয়েই উঠেছে বড় প্রশ্ন।
গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। তবে রাউন্ড অব বত্রিশে তারা চেনা সেই সাম্বা ছন্দে ফিরেছিল। আর এ কারণেই ৩৪ বছর বয়সী এই সুপারস্টারকে শুরুর একাদশে দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছেন সেলেসাও সমর্থকরা। আর্লিং হালান্ডের নরওয়েজিয়ান ভাইকিংদের রুখতে ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে কি আজ শুরু থেকেই মাঠে নামাবেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি?
ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে নেইমারকে নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়ে ধোঁয়াশা আরও বাড়িয়েছেন ব্রাজিলের ইতালিয়ান কোচ। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘ফোলিয়া দে সাও পাওলো’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘নেইমার এবং ভিনিসিউস জুনিয়র একসঙ্গে খেলতে পারে এবং তারা একসঙ্গেই খেলবে। সবচেয়ে বড় কথা ও এখন খেলার জন্য প্রস্তুত। আমার যখনই মনে হবে দলের ওকে প্রয়োজন, আমি ওকে মাঠে নামাব। হ্যাঁ, ও এখন পুরো ৯০ মিনিট খেলার মতো ফিট।’
তবে আনচেলত্তি মুখে এ কথা বললেও নেইমারকে আজ শুরু থেকেই খেলাবেন কি না, তা নিশ্চিত করেননি। এর আগে গ্রুপ পর্বে মরক্কো, স্কটল্যান্ড ও জাপানের বিপক্ষে ম্যাচের আগেও তিনি প্রায় একই রকম কথা বলেছিলেন, অথচ নেইমারকে বসে থাকতে হয়েছিল বেঞ্চেই। অবশ্য স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের ৭৬ মিনিটে বদলি হিসেবে তিনি মাঠে নেমেছিলেন। অল্প সময়েই দেখিয়েছেন ঝলক।
আজকের ম্যাচকে সামনে রেখে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেইমারের একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশন দিয়েছে: ‘টিক-টক… বিশ্বকাপের শেষ ১৬-র ম্যাচ আর মাত্র কিছু সময় বাকি।’ যা দেখে ভক্তদের মনে আশা আরও জোরালো হচ্ছে।
সুপারস্টার ফুটবলাররা সাধারণত বেঞ্চে বসে থাকতে পছন্দ করেন না। নেইমারের ক্ষেত্রেও তা ব্যতিক্রম নয়। আনচেলত্তিও অকপটে স্বীকার করেছেন নেইমারের এই মনঃকষ্টের কথা, ‘বেঞ্চে বসে থাকার এই পরিস্থিতিতে ও অবশ্যই খুশি নয়, তবে ও খুবই পেশাদার আচরণ করছে এবং অনুশীলনে নিজের সেরাটা দিচ্ছে। ও দলের সবার ভালোবাসার পাত্র এবং খুবই বিনয়ী। একজন খেলোয়াড় বেঞ্চে বসে খুশি না হওয়াটাই ইতিবাচক লক্ষণ।’
বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণার আগে একটি ভিডিও কনফারেন্সে নেইমারকে তার ভূমিকা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন আনচেলত্তি। তখন নেইমার বলেছিলেন, ‘কোনো সমস্যা নেই। আমি দলের একজন সাধারণ সদস্য হিসেবে যেকোনো ভূমিকায় সাহায্য করতে প্রস্তুত।’ আনচেলত্তি তখন সরাসরিই বলেছিলেন, ‘সাহায্য করা মানে কিন্তু বেঞ্চে বসে থাকাও।’ নেইমার সেটি জেনেই দলে এসেছিলেন।
নেইমার যতই বড় তারকা হোন না কেন, আনচেলত্তির বর্তমান কৌশলে তার ভূমিকা অনেকটাই কমে এসেছে। কাতার বিশ্বকাপের পর চোট, ফর্মহীনতা ও ফিটনেস সমস্যার কারণে দলে জায়গা হারাতে হয়েছিল। আনচেলত্তি এখন আর হালান্ডকে আটকানোর ছক না কষে বরং ভিনিসিউস জুনিয়র ও ব্রুনো গিমারায়েসদের ওপর ভরসা করে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতেই বেশি পছন্দ করছেন।