ঢাকা: ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন’ (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেছেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ড, মার্জিন ইস্যু রুলস এবং পাবলিক ইস্যু রুলস পরিবর্তন করতে হবে। বাজার ঠিক করতে হলে এগুলোতে পরিবর্তন আনতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ‘ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম’ আয়োজিত ‘সিএমজেএফ টক’-এ তিনি এসব কথা বলেন।
একটি কোম্পানি কেন আইপিও-তে আসে না-এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, তাদের এক বস্তা কাগজ দিতে হয়। এছাড়া দেড় বছর অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু ব্যাংকে গেলে দ্রুত সময়ে অর্থ পায় উদ্যোক্তারা। তাই আমরা আইপিও প্রক্রিয়া সহজ করব। আমাদের এই প্রক্রিয়া সহজিকরণ করতেই হবে।
মাসুদ খান বলেন, এটি এমন একটি জায়গা, যারাই এসেছেন, তারাই কলঙ্কিত হয়েছে। এজন্য আমি প্রথমে দায়িত্ব নিতে চাইনি। পরে যখন দেখলাম যে, এ সরকার ক্যাপিটাল মার্কেট বান্ধব, আর আমাকে যিনি এই পদে আসতে বললেন, তিনি জানালেন যে, আমি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবো। এরপর আমি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেই।
তিনি বলেন, আমি বহুজাতিক কোম্পানি থেকে এসেছি। আমরা কাজের ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ পরিকল্পনায় এবং ২০ শতাংশ বাস্তবায়নে ব্যবহার করি। বিএসইসি-তেও যোগদানের আগে ৩ মাস পুঁজিবাজার নিয়ে পরিকল্পনা করেছি।
তিনি বলেন, আমাদের বড় একটি প্রাইমারী রেগুলেটর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। কোন একটা শেয়ারে অস্বাভাবিক লেনদেন হচ্ছে। এর জন্য তাদের বিএসইসি’র অনুমোদন চাইতে অপেক্ষা করতে হতো। ততদিন অস্বাভাবিক লেনদেন চলতো। এ প্রেক্ষিতে রিয়েল টাইম অ্যাকশন নেয়ার জন্য ডিএসই-কে ক্ষমতা দেওয়া হল। এছাড়া স্টক এক্সচেঞ্জকে সার্কিট ব্রেকার নির্ধারণের ক্ষমতা দিয়েছি। বাজারের স্বার্থে এসব ডিরেগুলেশন খুবই জরুরি, যেটি আমরা করেছি। এছাড়া বন্ধ কোম্পানির লেনদেন বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সারাবিশ্বে বন্ধ কোম্পানির শেয়ার আমাদের মতো লেনদেন হওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, পাশ হওয়া বাজেটে এগুলো এসেছে। এটি কি আলাদিনের চেরাগ? না। এর জন্য আমাদের পেছন থেকে অনেক কাজ করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ড বড় না করলে বাজার এগোবে না। রিটেইল ইনভেস্টরের পক্ষে তো ভালো শেয়ারের জ্ঞান নেই। বিদেশে একটি লাইসেন্স এনালাইসিস থাকে। আমরা এটির আদলে ফাইন্যান্সিয়াল পরামর্শক সনদ দেব। ভারতে একটি পানের দোকানেও মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা হয়। আমার প্রধান টার্গেট ছিলো মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এটি নিয়ে আমরা কাজ করছি।
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আগামীতে ইউনিলিভার, ইনসেপটার মতো কোম্পানি ডাইরেক্ট লিস্টিং করা হবে। বর্তমানে শুধুমাত্র সরকারি কোম্পানি ২৫ শতাংশ শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে ডাইরেক্ট লিস্টিং হতে পারে। তবে আগামীতে সব ধরনের কোম্পানি ১০ শতাংশ অফলোড করেই এমনটি হতে পারবে।
মাসুদ খান বলেন, মার্জিন রুলসে বর্তমান আইনে এতগুলো শর্ত আছে, যেখানে মার্জিন ঋণ নেয়ার সুযোগ খুবই কম। আগামী সপ্তাহের মধ্যে মার্জিন ঋণ নিয়ে একটি খসড়া প্রকাশ হবে। যেটি গেজেট আকারে প্রকাশ পেলে বাজারে খুব সহজেই মার্জিন ঋণ নেওয়া যাবে।
তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পরেই অনেকের নেতিবাচক মন্তেব্যের পরও বিতর্কিত ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। এছাড়া বর্হিবিশ্বে সম্মান রক্ষার জন্য লন্ডনে বেক্সিমকো ফার্মার তালিকাচ্যুতি ঠেকানোর উদ্যোগ নেই।
পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিনের চাহিদা সেটেলমেন্ট টি+১ করার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। এটা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে।
পুঁজিবাজারে অপরাধীদের জেল ও আর্থিক জরিমানা নিশ্চিতে কমিশন কাজ করছে বলে জানান তিনি। কারণ বর্তমানে বিএসইসি জরিমানা ও শাস্তি দিলেও তা আদালতে আটকে যায়। এ কারণে বিগত কমিশন ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা জরিমানা করলেও আদায় হয়েছে মাত্র ৩৩ লাখ টাকা। এ সমস্যা সমাধানে বিএসইসি ইতোমধ্যে আদালতে বিশেষ বেঞ্চ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া শেয়ারবাজার বিষয়ক ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বন্ড মার্কেট সক্রিয় করতে আগামীতে বন্ডকে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডের পরিবর্তে মূল মার্কেটে তালিকাভুক্ত করা হবে। এছাড়া ডেরিভেটিবস চালুর জন্য বিএসইসি সক্রিয় রয়েছে। এটা চালু করতেই হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিএসই তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ ওে বাতিল করতে পারে। সেখানে বিএসইসি হস্তক্ষেপ করতে পারে না। তারা তাদের আইন অনুযায়ী চাকুরিচ্যুত করেছে। এছাড়া বিএসইসি থেকে চাকুরিচ্যুতদের বিষয়ে এ মাসে সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।