ঢাকা: চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো কাজে দুর্নীতি হয়ে থাকলে তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দোষীদের অবশ্যই কঠোর বিচারের আওতায় আনা হবে এবং এই ক্ষেত্রে কাউকেই কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার ( ১৫ জুলাই ) বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ঢাকা-৫ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরটি দেশের তথা সাধারণ জনগণের এক অমূল্য সম্পদ এবং এই রাষ্ট্রীয় সম্পদের যেকোনো ধরনের অপচয় রোধ করার পাশাপাশি সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে তার সরকার সর্বদা সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকবে।
তিনি আরও বলেন, এই বন্দরে কোনো কাজ করতে গিয়ে যদি দুর্নীতি হয়ে থাকে, সেটি অতীতে যখনই হয়ে থাকুক না কেন, অবশ্যই দেশের আইন অনুযায়ী যারা এই অনিয়মের জন্য দায়ী তাদের প্রত্যেকের উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের মূল প্রচেষ্টা থাকবে যেন রাষ্ট্রীয় সম্পদের বিন্দুমাত্র অপচয় না ঘটে।
সংসদ অধিবেশনে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম-এর অপর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরের সক্ষমতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ার নানামুখী তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বের ও দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন ধরনের জটিল পরিস্থিতি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে মোকাবেলা করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিরবচ্ছিন্নভাবে তাদের বন্দর পরিচালনা কার্যক্রম সচল রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ব মন্দা এবং কোভিড-১৯ মহামারির সংকটের সময়েও চট্টগ্রাম বন্দর সম্পূর্ণ সার্বক্ষণিক তথা চব্বিশ ঘণ্টা সচল ছিল, যার ফলে ২০১০ সালে যেখানে কার্গো ও কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ছিল যথাক্রমে ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৯৬ হাজার ৬৬৩ মেট্রিক টন এবং ১৩ লাখ ৪৩ হাজার ৪৪৮ টিইইউএস, সেখানে ২০২৫ সালে এসে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ রেকর্ড ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৫১ হাজার ৮১২ মেট্রিক টন কার্গো এবং ৩৪ লাখ ০৯ হাজার ০৬৯ টিইইউএস কন্টেইনার অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে হ্যান্ডলিং করতে সক্ষম হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত বছরের তুলনায় ২০২৫ সালে বন্দরে কন্টেইনার, কার্গো এবং জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে যথাক্রমে ৪.০৭ শতাংশ, ১১.৪৩ শতাংশ এবং ১০.৫ শতাংশ।
বন্দরের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও এর অপারেশন চালু করা, লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ এবং বন্দরের নাব্যতা রক্ষায় নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম সম্পূর্ণ কাগজবিহীন ও ডিজিটাল করার অংশ হিসেবে অনলাইন পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম, ই-ডেলিভারি অর্ডার, ই-পেমেন্ট, ই-গেট পাস ও অটোমেশন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। বন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রমে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি বাস্তবায়নের পাশাপাশি আধুনিক ইকুইপমেন্টের সংকট কমাতে
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে নতুন কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট সংগ্রহের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বেশ কিছু ফর্কলিফট সংগ্রহের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে এবং বাকিগুলোর দরপত্র মূল্যায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, বিকেলে সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার পর দিনের নির্ধারিত কর্মসূচির প্রথম ত্রিশ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব হিসেবে পরিচালিত হয় এবং সেখানে নির্ধারিত ৭টি তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত সময়ে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের বিস্তারিত ও সম্পূরক উত্তর প্রদান করেন।