ঢাকা: দেশের অর্থনীতিতে নানা প্রতিকূলতা ও নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ঋণ পরিশোধে সমস্যায় পড়া গ্রাহকদের জন্য বিশেষ এক্সিট সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সুবিধার আওতায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে অনাদায়ী ঋণ আদায় ও সমঝোতার সুযোগ পাবে ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এ বিষয়ে ফাইন্যান্স কোম্পানি পরিদর্শন ও নীতি বিভাগ থেকে এক্সিসিআরপিডি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে অনেক ঋণগ্রহীতার ব্যবসা, শিল্প বা উদ্যোক্তা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঋণ পরিশোধে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় এককালীন সমঝোতার মাধ্যমে ঋণ আদায়ের সুযোগ করে দিতেই বিশেষ এ নীতিমালা চালু করা হয়েছে।
সার্কুলার অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে শ্রেণিকৃত ঋণের ক্ষেত্রে আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো বিশেষ এক্সিট সুবিধা দিতে পারবে। তবে এ সুবিধা নিতে হলে ঋণগ্রহীতাকে এককালীন সমঝোতার ভিত্তিতে দায় পরিশোধ করতে হবে। মূল ঋণ (আসল) মওকুফ করা যাবে না, যদিও প্রয়োজন অনুযায়ী বকেয়া সুদ আংশিক বা সম্পূর্ণ মওকুফের সুযোগ থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও স্পষ্ট করেছে, যেসব ঋণের ক্ষেত্রে অর্থ ভিন্ন খাতে সরিয়ে নেওয়া (ফান্ড ডাইভার্সন), ঋণ জালিয়াতি বা অন্য কোনো ধরনের প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে, সেসব ঋণ এ বিশেষ সুবিধার আওতায় আসবে না। এছাড়া কৃষি ও সিএমএসএমই খাতের কটেজ, ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্রাকৃতি ও মাঝারি ঋণকে এ সুবিধা প্রদানে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
সার্কুলারে ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোকে ঋণগ্রহীতাদের অবহিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এ বিশেষ নীতিমালা চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।