Thursday 06 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

টানা বৃষ্টিতে ভেসে গেছে মাছের ঘের, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

রেজাউল ইসলাম তুরান, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯:১১ | আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২২:১৪

খুলনা: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে টানা তিন দিনের ভারী বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে খুলনার বিভিন্ন এলাকা। এতে মাছের ঘের ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) খুলনার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া জেলা ও মহানগরীতে অবস্থিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে আছে। এদিকে, জেলার সড়কগুলোতে যানবাহনের উপস্থিতি কম। যে করণে জরুরি কাজে বাইরে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষদের।

মহানগরীর বাস্তুহারা এলাকার বাসিন্দা আমিনা বেগম বলেন, ‘ঘরে পানি উঠে যাওয়ায় গতকাল রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে রান্নাবান্না বন্ধ থাকায় শুকনা খাবার খেতে হয়েছে। বাথরুমে পানি ঢুকে পরায় তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বৃষ্টিতে আমাদের এলাকার অধিকাংশ বাড়ির নিচতলায় হাঁটু পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে গেছে। এখানে থাকার পরিবেশ নেই, তাই বাবার বাড়ি যাব।’

বিজ্ঞাপন

রিকশাচালক কামরুল হোসেন বলেন, ‘তিন দিন ধরে লাগাতার বৃষ্টিতে খুবই অসহায় হয়ে পড়েছি। সকাল থেকে প্রচুর বৃষ্টি হওয়ার পরেও পেটের তাগিদে রিকশা নিয়ে বের হয়েছি।’ খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালী ইউনিয়নের কৃষক আলতাফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের এলাকার অধিকাংশ আমন ধানের মাঠ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। নিজের জমিতে সবজি লাগিয়ে ছিলাম সেগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

আড়ংঘাটা থানাধীন তেলিগাতী গ্রামের বিল ডাকাতিয়ার মাছ চাষী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘গত তিন দিনের ভারী বর্ষণে বিল ডাকাতিয়ার তেলিগাতী মৌজার সহস্রাধিক মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে চিংড়ি এবং সাদা মাছ। পানি বেশি হলে গলদা চিংড়ি আটকে রাখা যায় না। কোনো না কোনোভাবে পায়ে হেঁটে বের হয়ে যায়।’

খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব পাল জানান, ‘গত তিন দিনের বৃষ্টিতে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ৩০ হাজার মাছের ঘের তলিয়ে ও ভেসে গেছে। ডুমুরিয়া, পাইকগাছা, রূপসা ও দিঘলিয়া উপজেলায় ঘেরের বেশি ক্ষতি হয়েছে।’

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে আমন ধানের ক্ষেত কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অতিবৃষ্টি ও বাতাসের ফলে আমন ধান ১৭ হাজার ৮৬০ হেক্টর, সবজি ৩০৯০ হেক্টর, টমেটো ২০ হেক্টর, তরমুজ ২৩০ হেক্টর, পান ২০ হেক্টর ও কলা ৫৫ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে। অনেক জায়গায় ধানের জমি তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন কয়রা, পাইকগাছা, ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটা উপজেলার কৃষকরা। ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

খুলনা আবহাওয়া অধিদফতরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আমিরুল আজাদ বলেন, ‘রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা থেকে সোমবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ১৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। নিম্নচাপের কারণে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে।’

সারাবাংলা/পিটিএম