চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম বন্দর সীমানায় জ্বালানি তেল পরিবহনে নিয়োজিত রাষ্ট্রায়ত্ত একটি ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত দু’জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টার দিকে বন্দরের ডলফিন জেটিতে অয়েল ট্যাংকারে আগুন লাগার খবর পৌঁছে চট্টগ্রামে ফায়ার সার্ভিসের কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে।
জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডকবলিত অয়েল ট্যাংকারটি বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের মালিকানাধীন। জাহাজটি প্রায় ৩৮ বছরের পুরনো। কর্ণফুলী নদীতে চট্টগ্রাম বন্দরেরর ডলফিন অয়েল জেটিতে অয়েল ট্যাংকারটি নোঙর করা ছিল। ট্যাংকারটি সাগরে নোঙর করে রাখা বড় ট্যাংকার থেকে তেল পরিবহন করে জেটিতে নিয়ে আসে। এরপর ইস্টার্ন রিফাইনারিতে সরবরাহ করা হয়।
অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সার্বিক বিষয়ে বিকেল ৫টায় সংবাদ সম্মেলন করবেন বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেলা ১১টার দিকে আগুন লাগার সংবাদ পৌঁছার পর আটটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে। দুপুর পৌনে একটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বিকেল চারটার দিকে পুরোপুরি নির্বাপিত ঘোষণার পর ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো ফেরত আসে।
অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে জাহাজ থেকে দুটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক সারাবাংলাকে বলেন, ‘বেলা ১১টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুততার সঙ্গে বন্দরের সাহায্যকারী জলযান পাঠানো হয়। আশপাশের সব জাহাজকে দ্রুততার সঙ্গে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। বন্দরের জেটিতে নোঙ্গর থাকা বাকি সব অয়েল ট্যাংকারকে সতর্ক করা হয়। আমাদের ত্বড়িৎ পদক্ষেপের কারণে বন্দর চ্যানেলে জাহাজ চলাচলে কোনো সমস্যা হয়নি।’
ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত সাংবাদিকদের জানান, বন্দর, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন সংস্থার সম্মিলিত চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সময় ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়।