Saturday 08 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় চাকরি হারালেন নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ!

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১২ অক্টোবর ২০২৪ ২০:১২ | আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৪ ১৪:৩২

চট্টগ্রাম ব্যুরো: অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কারণে চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষকে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া মধ্যরাতে ওই অধ্যক্ষকে তার আট মাস বয়সী শিশুসহ কলেজের হোস্টেল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৯ অক্টোবর) নগরীর অ্যাপোলো ইমপেরিয়াল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ওই অধ্যক্ষের নাম ডলি আক্তার। তিনি ওই হাসপাতালের অধীন চট্টগ্রাম ইমপেরিয়াল কলেজ অব নার্সিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব ছিলেন।

ডলি আক্তার সারাবাংলাকে বলেন, ‘গত বছর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী চার মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি পেয়েছিলাম। গত ২১ সেপ্টেম্বর হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগের চিকিৎসকের কাছে অসুস্থতার কারণে দেখা করতে গেলে তিনি আমার পরীক্ষা করেন। তিনি আমাকে পুনরায় অন্তঃসত্ত্বা হয়েছি বলে জানান।’

বিজ্ঞাপন

‘বিষয়টি মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের জানালে তারা আমাকে হেনস্থা করেন। তারা বলেন, আপনি গত বছরও চার মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়েছেন, এই বছরও আবার ছুটি নেবেন। এটা হতে পারে না। আপনি পদত্যাগপত্র দেন না হয় আপনাকে আমরা টার্মিনেট করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি পদত্যাগ না করায় আমাকে বুধবার চাকরিচ্যুতির একটি নোটিশ ধরিয়ে দেয় তারা। এরপর তারা আমাকে কলেজ সংক্রান্ত সকল কাগজপত্র কলেজ সেক্রেটারির কাছে বুঝিয়ে দিয়ে তৎক্ষনাৎ কলেজ হোস্টেল ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলেন। আমার পরিবার ঢাকায় থাকায় আমি তাদের কাছে কয়েকদিনের সময় চাই। কিন্তু তারা আমাকে সেদিনই মধ্যরাতে আট মাস বয়সী সন্তানসহ অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় কলেজের হোস্টেল থেকে বের করে নগরীর হোটেল পেনিনসুলায় রেখে আসে।’

তার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে বড় অন্যায় করা হয়েছে। এ কলেজকে আমি তিলতিল করে গড়ে তুলেছি। পরিশ্রম করেছি। সেটা আমার ছাত্রছাত্রীরা ভালো করেই জানে। আমাকে কেন টার্মিনেট করা হলো তার উত্তর তারা দিতে পারেনি। আমার জায়গা থেকে যতটুকু লড়াই করার সেটা আমি করে যাব।’

এদিকে বুধবার হাসপাতালের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান আরিফুর রহমানের সই করা ওই চিঠিতে বলা হয়, কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডলি আক্তার আর ওই পদে থাকতে পারবেন না। তাকে যতদ্রুত সম্ভব কলেজ সংক্রান্ত সকল কাগজপত্র, ল্যাপটপ কলেজ সেক্রেটারির কাছে বুঝিয়ে দিয়ে হোস্টেল ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়।

অ্যাপোলো ইমপেরিয়াল হাসপাতালের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান আরিফুর রহমানের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কল ধরেননি। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

সারাবাংলা/আইসি/ইআ