Thursday 20 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

প্রতিবন্ধিদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৮ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৪:৪৮ | আপডেট: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৮:১৫

ঢাকা : প্রতিবন্ধিদের সাংবিধানিক ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন এবং তাদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছে জাতীয় প্রতিবন্ধি উন্নয়ন ফাউন্ডেশন।

শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে আয়োজিত জাতীয় প্রতিবন্ধি উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের প্রতিবন্ধি সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র কর্মকর্তা কর্মচারি সোসাইটির ঢাকা বিভাগীয় সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. রেজাউল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আনিসুজ্জামান, মো. আলী হোসেন, মো.মাহাবুবুল মুনির প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফুলমতি রোজারিও।

বিজ্ঞাপন

সংগঠনের সভাপতি মো. রেজাউল কবির বলেন, সরকার যায়, সরকার আসে। কিন্তু ৫০ লাখ প্রতিবন্ধির ভগ্যের পরিবর্তন হয় না। তারা এখনও বৈষম্যের শিকার।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান বলেন, প্রতিবন্ধিদের অধিকার আদায়ে অধিদফতর নয়, পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করতে হবে। তাহলে ৫০ লাখ প্রতিবন্ধিদের ন্যায্য অধিকার পেতে বেগ পেতে হবে না। পাশাপাশি তাদের সমাজে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য একটি আইন বা বিধিমালা প্রণয়ন করা জরুরী।

তিনি বলেন, প্রতিবন্ধিরা দেশের বোঝা নয়, রাষ্ট্র ও সমাজের সম্পদ। যদিও আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্র তাদের সেই চোখে দেখে না। রাষ্ট্র পরিচালনায় যারা আছেন, তাদের প্রতিবন্ধিদের সার্বিক বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। ঢাকা শহর থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জে প্রতিবন্ধিরা অবহেলিত। রাষ্ট্র ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধিদের চলাফেরা করার জন্য উল্ল্যেখযোগ্য কোনো ব্যবস্থা নেই। মেট্রোরেলের দিকে তাকালেই এর বাস্তবতা ফুটে উঠে। প্রতিবন্ধিদের জন্য আলাদা একটি বগির ব্যবস্থা করলে তেমন কোনো ক্ষতি হতো না।

তিনি আরো বলেন, অনেক প্রতিবন্ধিকে দেখা যায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যাটারিচালিত রিক্সা চালাতে। অনেকে পান সিগারেট বিক্রি করে থাকেন। কেউ রমনা পার্কে ফুল বিক্রি করে সংসার চালান। আবার অনেক প্রতিবন্ধি আছেন, যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্স্টাস পাশ করেছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতেও তারা বিসিএসসহ নন ক্যাডার চাকরিতে প্রবেশ করতে পারছেন না। তাদের প্রতি এ ধরনের বৈষম্য কেন- এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।

গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জাল হোসেন বলেন, প্রতিবন্ধিরা রাষ্টের সম্পদ হতে পারে। সেজন্য রাষ্ট্রকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া প্রত্যেকটি রাজনৈতি দলে প্রতিবন্ধি সম্পাদক পদ সৃষ্টি এবং ইউনয়ন থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদে প্রতিবন্ধিদের জন্য সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা করা উচিত। প্রতিবন্ধিদের জন্য কর্মব্যবস্থা ও বাজেটে অধিক বরাদ্দ রাখার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/আরএস