Friday 21 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

পাঠ্যপুস্তকে ‘আদিবাসী’ শব্দ বাতিলসহ ৫ দাবি

ঢাবি করেসপন্ডেন্ট
৮ জানুয়ারি ২০২৫ ১৭:০৯

২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাঠ্যপুস্তক থেকে ‘আদিবাসী’ শব্দ প্রত্যাহার করার ঘোষণা না আসলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি

ঢাবি: ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের দাখিল নবম ও দশম শ্রেণির ‘বাংলা ব্যাকরণ ও নিমিতি’ বইয়ের কভার পৃষ্ঠায় সংবিধানবিরোধী, বিতর্কিত ও রাষ্ট্রদ্রোহী পরিভাষা ‘আদিবাসী’ শব্দ অন্তর্ভুক্ত করায় জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের অপসারণ ও শাস্তিসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি সংগঠন ‘স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি’।

একইসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাঠ্যপুস্তক থেকে ‘আদিবাসী’ শব্দ প্রত্যাহার করার ঘোষণা না আসলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটির নেতারা।

বুধবার (৮ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঢাবির সাংবাদিক সমিতিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবিগুলো উত্থাপন করেন সংঘঠনটি।

বিজ্ঞাপন

তাদের দাবিগুলো হলো—

  • শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা সরকার থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাঠ্যপুস্তক থেকে ‘আদিবাসী’ শব্দ প্রত্যাহার করার ঘোষণা আসতে হবে। নইলে বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে শিক্ষার্থীরা।
  • পাঠ্যপুস্তকে ‘আদিবাসী’ শব্দ যুক্ত করানোর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের অপসারণ ও শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
  • ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদেরকে ‘আদিবাসী’ বলা ও প্রচারণাকে রাষ্ট্রদ্রোহী অপরাধ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।
  • শিক্ষার মানোন্নয়নের নামে দেশের শিক্ষাখাতে বিদেশি বা আন্তর্জাতিক সংস্থা বা এনজিও থেকে তহবিল নেওয়া বন্ধ করতে হবে এবং বৈদেশিক তহবিলে আমাদের শিক্ষার্থীদের মগজ বিক্রি করা যাবে না।
  • দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে ‘শিক্ষানীতি, শিক্ষাক্রম, পাঠ্যক্রম এবং পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও পরিমার্জনে বিদেশি সংস্থা বা তাদের দ্বারা প্রভাবিত ব্যক্তিদের থেকে শতভাগ প্রভাবমুক্ত করতে হবে। এক্ষেত্রে ‘স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি’র পরামর্শ ও প্রতিনিধিত্ব রাখতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির আহ্বায়ক মুহম্মদ জিয়াউল হক জিয়া বলেন, ‘নতুন বছরের দাখিল নবম-দশমের ‘বাংলা ব্যাকরণ ও নিমিতি’ বইতে ‘আদিবাসী’ শব্দ সংযোজন খুবই আপত্তিকর, অনাকাঙ্ক্ষিত, সংবিধান বিরাধী ও রাষ্ট্রদ্রোহী কর্ম, যা বিচ্ছিন্নতাবাদের পথ সহজ করবে। কারণ বাংলাদেশে একমাত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং তাদের দেশি-বিদেশি পৃষ্ঠপোষক ও দোসররাই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদেরকে ‘আদিবাসী’ বলে প্রচারণা চালায় ও স্বীকৃতি চায়। তাদের এই প্রচারণা ও স্বীকৃতি চাওয়ার পেছনে আলাদা রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘ছলে-বলে-কৌশলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদেরকে দেশে ‘আদিবাসী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নতুন একটি তথাকথিত স্বাধীন রাষ্ট্র ‘জুম্মল্যান্ড’ তৈরি হবে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সেই পৃষ্ঠপোষক ও দোসররাই ‘আদিবাসী’ শব্দটি বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করেছে। সরকারকে একটি তদন্ত কমিটি করে অতিদ্রুত এদেরকে চিহ্নিত করে অপসারণ করতে হবে এবং শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

সারাবাংলা/এআইএন/এইচআই