Monday 24 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

৮ মাসের অন্ত:সত্ত্বা স্ত্রীকে খুন, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৪:২৫

খুনি স্বামী ও দণ্ডিত আসামি মো. সুমন (৩৫)

চট্টগ্রাম ব্যুরো: আট মাসের অন্ত:সত্ত্বা স্ত্রীকে খুনের মামলায় স্বামীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন চট্টগ্রামের একটি আদালত। একইসঙ্গে আদালত আসামিকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক ফেরদৌস আরা এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী কফিল উদ্দিন।

দণ্ডিত মো. সুমন (৩৫) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানার মির্জারহাট এলাকার বাসিন্দা।

মামলার নথি পর্যালোচনা করে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে একই এলাকার মনি আক্তারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে হয় আসামি সুমনের। সুমন এর আগেও একাধিক বিয়ে করেছিলেন যা মনির কাছে গোপন রেখেছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বিয়ের পর থেকে যৌতুকের টাকার জন্য মনি আক্তারকে শারীরিক নির্যাতন করতেন সুমন। ভিকটিম শারীরিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং সংসার টেকানোর লক্ষ্যে সুমনকে একটি মোটরসাইকেল কিনে দেন এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা দেন। এর মধ্যে মনি আট মাসের অন্ত:সত্ত্বা হন।

এরপরও যৌতুকের টাকার জন্য প্রতিনিয়ত মনিকে চাপ দিতেন সুমন। ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর মনির বাবার বাড়ি ভুজপুর আসেন সুমন। সঙ্গে মনিকে নিয়ে আসেন। এসেই যৌতুকের টাকা চান মনির পরিবারের কাছে। কিন্তু মনির দরিদ্র বাবা টাকা দিতে না পারায় আসামি সুমন ক্ষিপ্ত হয়ে মনিকে নিয়ে চলে আসেন। আসার পথেই মোটরসাইকেলে এ নিয়ে মনির সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক হয়, গালিগালাজও করেন।

এক পর্যায়ে ভুজপুর থানার কালিকুঞ্জ এলাকায় আসামি সুমন চলন্ত মোটরসাইকেলে বসা মনিকে থাপ্পড় দিয়ে মাটিতে ফেলে মারধর শুরু করেন। এরপর সুমন আঙুল দিয়ে মনির বাম চোখ নষ্ট করে ফেলেন ও দুই হাত-দুই পা ভেঙে ফেলেন। এছাড়া ইট দিয়ে মনির মাথায় আঘাত করেন ও মোটরসাইকেলের গরম সেলেঞ্জার পাইপের সঙ্গে মনির বুক চেপে ধরে পুড়ে ফেলেন। এরপর সুমন মনিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) রেখে পালিয়ে যান।

ঘটনা ঘটার ২৬ দিনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ নভেম্বর আট মাসের গর্ভাবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন মনি।

২০২১ সালের ২৭ নভেম্বর মনির ভাই মো. আব্বাস বাদি হয়ে মামলা করেন। ২০২২ সালের ১৬ এপ্রিল নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি এলাকা থেকে সুমনকে। গ্রেফতার র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। ২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আসামি মো. সুমনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এ রায় দেন আদালত।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী কফিল উদ্দিন সারাবাংলাকে জানান, আসামি সুমনের বিরুদ্ধে তার স্ত্রীসহ গর্ভজাত সন্তানকে খুন করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ১১(ক) ধারায় আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে আদালত আসামিকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন। রায়ের সময় আসামি সুমন উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সারাবাংলা/আইসি/এসডব্লিউ