Wednesday 26 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

র‍্যাব বিলুপ্ত ও দোষী প্রধানদের প্রকাশ্যে ফাঁসির দাবি / ক্ষতিপূরণ ও মাসিক ভাতাসহ ৮ দফা দাবি গুমের শিকার পরিবারের

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৫:২২ | আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৭:২৪

ঢাকা: পরিবারের সদস্যদের চাকরি, ক্ষতিপূরণ ও মাসিক ভাতা প্রদানসহ ৮ দফা দাবি জানিয়েছেন পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তির স্বজনরা।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ গুম পরিবারের প্রধান সমন্বয়ক মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘আমি ২০১৬ সালে আয়না ঘরে ছিলাম। সেখানে অনেককে উলঙ্গ করে রাখা হয়েছিল। পরে তারা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। কখন রাত, আর কখন দিন- সেটা বুঝতাম না। নির্যাতনকারীরা প্লাস দিয়ে পায়ের লোম তুলে ফেলত। হাতে গোনা ৪-৫ টা আয়না ঘর প্রকাশ করা হয়েছে। আরো অনেক আয়না ঘর আছে। আয়না ঘরে মাত্র এই কয়জন লোকজন ছিল? তাহলে বাকি যারা এখনো গুম, তারা কোথায়? র‌্যাব এর যারা প্রধান ছিলেন, তাদের প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া উচিত।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি সরকার আয়না ঘর পরিদর্শন করেছে। কিন্তু আয়না ঘরের কাউকেই আর জীবিত দেখতে পাইনি। আমাদের ধারনা- তারা আর কেউ বেঁচে নেই। এমতাবস্থায় গুম ও খুনের শিকার পরিবারগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত ৮ দফা দাবিগুলো হচ্ছে- সারাদেশে আয়না ঘরের তালিকা তৈরি করা;
গুম কমিশনের লোকবল বাড়িয়ে তদন্ত সঠিকভাবে হচ্ছে কি না- সেটা যাচাইয়ে মনিটরিং সেল গঠন; র‍্যাবকে বিলুপ্ত ঘোষণা এবং প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে সংস্কার ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা; যেহেতু আয়না ঘরের কোনো লোক জীবিত নেই, তাই প্রতিটি ব্যক্তিকে শহিদী মর্যাদা এবং তাদের পরিবারগুলোকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান; ভিকটিম যারা ফেরত এসেছে কিংবা যাদের আর পরিবারের কাছে ফেরত আসার সম্ভাবনা নেই- তাদের প্রতিটি পরিবারের ১ জনকে সরকারি চাকরি ও মাসিক ভাতা প্রদান; ভিকটিম পরিবারের সন্তানদের বিনা মূল্যে পড়ালেখা করার সুযোগ প্রদান; পরিবারের কথা চিন্তা করে ভিকটিমের নামে থাকা ব্যাংক লেনদেন স্থানান্তর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় করার জন্য প্রতিটি পরিবারকে সনদ প্রদান।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এছাড়া গুম, খুন, অপহরণের সঠিক তদন্ত ও বিচার যাতে না হয়, সে জন্য ভিকটিম পরিবারগুলোকে ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি তাদেরকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানোর জন্য টাকার বিনিময়ে প্রশাসনের কিছু লোক ও আইনজীবীদের একটি চক্র তৎপর হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি দেওয়া দরকার।

সারাবাংলা/এমএইচ/আরএস