Friday 21 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

মুস্তাকিম ৪০৪*, সোয়াদ ২৬৫*, দেশের ক্রিকেটে রেকর্ড ৭৭০ রান

স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট
১৮ মার্চ ২০২৫ ১৯:৩৬

১৭০ বলে ৪০৪* রানের ইনিংস খেলেছেন মুস্তাকিম হাওলাদার। ছবি: সারাবাংলা

মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ততক্ষণে শেষ হয়েছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব-ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাবের ম্যাচ। পোস্ট ম্যাচ প্রেজেন্টেশনের প্রস্তুতি চলছে মাঠের একপাশে। দুই দলের ক্রিকেটাররা হাত মেলানো শেষে ড্রেসিংরুমেও ঢুকে গেছেন। এরপর ৫৫ রানে ম্যাচ জেতা প্রাইম ব্যাংকের শাহাদাত হোসেন দীপু আর শামীম পাটোয়ারি একসাথে বেরিয়ে এলেন ড্রেসিংরুম থেকে। সাথে সাদা জার্সি পরা এক কিশোর। দীপু-শামীম তাকে পাশে রেখে দাঁড়িয়ে ছবি তুললেন।

শামীম সরে যাওয়ার পর দীপু নিজ হাতে সেই কিশোরকে পরিয়ে দিলেন প্রাইম ব্যাংকের ক্যাপ। যেতে যেতে হেসে বলেও গেলেন, ‘তোমার থেকে ১০০ রান আমাকে দিয়ে দিও।’ কেন এত আয়োজন? কেনই বা দীপু ক্যাপ পরিয়ে দিলেন তাকে?

বিজ্ঞাপন

আজ (মঙ্গলবার) প্রাইম ব্যাংক স্কুল ক্রিকেটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল ফিল্ডে ক্যামব্রিয়ান স্কুল এন্ড কলেজের হয়ে সেন্ট গ্রেগরি হাই স্কুল এন্ড কলেজের বিপক্ষে দীপুর কাছ থেকে ক্যাপ পাওয়া সেই কিশোর, যার নাম মুস্তাকিম হাওলাদার; খেলেছেন ১৭০ বলে ৪০৪* রানের অবিশ্বাস্য এক ইনিংস। ৫০টা চারের সাথে মেরেছেন ২২টা ছক্কা। দেশের স্বীকৃত ক্রিকেটে এমন কীর্তি এর আগে কখনোই দেখা যায়নি। মুস্তাকিমের সাথে সোয়াদ পারভেজও খেলেছেন ২৬৫* রানের ইনিংস। দুই বন্ধুর এমন দুর্ধর্ষ ব্যাটিংয়ে ৫০ ওভারে ক্যামব্রিয়ান কলেজ তোলে ২ উইকেটে ৭৭০ রান! তৃতীয় উইকেটে দুজন গড়েন ৬৯৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিও। ম্যাচটা ক্যামব্রিয়ান জিতেছে ৭৩৮ রানের ব্যবধানে।

১৭০ বলে ৪০৪* রানের ইনিংস খেলেছেন মুস্তাকিম হাওলাদার। ছবি: সারাবাংলা

 

এই রেকর্ড গড়া কীর্তির পর মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে প্রাইম ব্যাংকের ড্রেসিংরুমের সামনে গণমাধ্যমের সাথে কথা বললেন কোয়াড্রপল সেঞ্চুরিয়ান মুস্তাকিম। সেখানেই জানালেন এই অবিশ্বাস্য ইনিংস আর জুটির নেপথ্যের গল্প।

মুস্তাকিম বলেন, ;নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস ছিল আজকে একটা কিছু করার। ব্যাটিংয়ের সময় চেষ্টা করছিলাম ব্যাটে-বলে ঠিকঠাক সংযোগ করার। পরে দেখলাম যে ভালো লাগছে, তখন মনে হচ্ছিল যে পারব। আর অনুশীলনে সবসময় আক্রমণাত্মক ব্যাটিংই করা হয়। আমার কোচ বলেন, যা-ই মারবে জোর দিয়ে মারবে। মন্থর ক্রিকেট খেলা যাবে না। ক্রিকেট তো আধুনিক হয়ে গেছে। ওভাবেই তাল মিলিয়ে চেষ্টা করছি।’

আদর্শ মানেন সাকিব আল হাসানকে। খেলতে চেষ্টা করেন ক্যারিবিয়ান ব্যাটারদের মতো। আন্দ্রে রাসেল, আন্দ্রে ফ্লেচারদের পাওয়ার হিটিং রপ্ত করতে চাওয়া এই তরুণ ব্যাটার খেলেন অনূর্ধ্ব-১৮ পর্যায়েও। যার সাথে ৬৯৯ রানের জুটি গড়েছেন, সেই সোয়াদ পারভেজ তার বন্ধু। ২০২১ থেকে একসাথে খেলে আসছেন দুজন।

২৫৬* রানের ইনিংস খেলেছেন অধিনায়ক সোয়াদ পারভেজ। ছবি: সারাবাংলা

সেই জুটির গল্পও শোনালেন মুস্তাকিম, ‘দুজনেরই আজকে ভালো ব্যাটে লাগছিল বল। দুজন মিলেই শেষ করার পরিকল্পনা ছিল। পঞ্চাশ রানে (আসলে ৭১) ২ উইকেট পড়ার পর একটু ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিলাম। তখন এক দিকে আমি মেরে খেলছিলাম। আর ওকে বলেছিলাম ধরে খেলতে। ও (সোয়াদ) আমি অনেক ছোটবেলা থেকেই খেলছি। ও আমাকে অনেক সহায়তা করেছে। শেষ দিকে তো ওভার কম ছিল। ও আমাকে স্ট্রাইক দিয়ে দিয়ে রানটা বেশি করাতে সাহায্য করেছিল। তাই ওকে ধন্যবাদ।’

১২৪ বলে ২৫৬* রানের ইনিংস খেলা সোয়াদ অবশ্য একটু আড়ালেই পড়ে গিয়েছিলেন মুস্তাকিমের প্রভাবে। তবে এক ফাঁকে দেখা মিলল তারও। ক্যামব্রিয়ান কলেজ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক তিনি। ২৫০ ছাড়ানো ইনিংসের পর বল হাতেও নিয়েছেন তিন উইকেট। এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স, বড় জুটির গল্প শোনালেন দশম শ্রেণির ছাত্র সোয়াদ।

জুটির পরিকল্পনা নিয়ে সোয়াদ বলেন, ‘আমাদের প্ল্যান ছিল ইনিংসটা যত লম্বা করা যায়। দুই উইকেট যাওয়ার পর আমি নামি। এরপর ভাবলাম যে একটা ভালো পার্টনারশিপ করি। আগের ম্যাচটা এমনিই হেরেছি, সো এই ম্যাচটা জেতার অনেক দরকার ছিল। এভাবেই আসলে পার্টনারশিপটা করতে করতে নট আউট দুজনই। আমার ২৫৬ আর ওর (মুস্তাকিম) হলো ৪০৪।’

নিজের পিতার সাথে সোয়াদ পারভেজ। ছবি: সারাবাংলা

এই ক্রিকেট যাত্রায় পরিবারের অসামান্য অবদানের কথা জানালেন দুজনই। করোনা মহামারীতে লকডাউন চলাকালীন মুস্তাকিম ঘরেই বানিয়েছিলেন ইনডোর ব্যাটিং ট্র্যাক, যেখানে তাকে বল ছুড়তেন তারা বাবা। আজকের ম্যাচ দেখতে মুস্তাকিমের বাবা না এলেও সোয়াদের বাবা ঠিকই উপস্থিত ছিলেন মাঠে।

নিজের বাবাকে পাশে রেখেই সোয়াদ জানালেন ক্রিকেটার হওয়ার পেছনে তার বাবার অবদান কতখানি, ‘আমার ফ্যামিলি সাপোর্ট অনেক ভালো। বিশেষ করে আমার বাবা। আমার বাবা আমার জন্য অনেক কিছু করে। এই রোজা রেখেও সকাল থেকে আমার সাথে আছেন। যেখানেই খেলি না কেন, প্রতিটা ম্যাচেই সাথে থাকেন।’

সারাবাংলা/জেটি