Friday 21 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

হামজার অভিষেকে বাংলাদেশের মিসের মহড়া, গোলশূন্য ড্র

স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট
২৫ মার্চ ২০২৫ ২১:২৮ | আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৫ ২২:০৬

গোলশূন্য ড্র বাংলাদেশের

হামজা চৌধুরীর অভিষেক ম্যাচ, স্বভাবতই বাংলাদেশের সব ফুটবলপ্রেমীর চোখ ছিল শিলংয়ের জওহর লাল নেহেরু স্টেডিয়ামে। প্রিমিয়ার লিগে খেলে আসা এক ফুটবলার নামছেন বাংলাদেশের জার্সিতে, সেই উন্মাদনার জোয়ার লেগেছে সীমান্তের ওপারেও। মাঠেও থাকল সেই আধিপত্যের ছাপ। কিন্তু গোল মিসের মহড়ায় দেখা পায়নি প্রতিপক্ষের জালের। গোল শূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ল বাংলাদেশ।

তবে হামজার অন্তর্ভূক্তি বাড়িয়ে দিয়েছিল উত্তেজনা, শুরুটাও বাংলাদেশ করেছিল সেভাবেই। কিন্তু ভোগাল সেই পুরনো ফিনিশিংয়ের সমস্যাই। একের পর এক টানা সুযোগ পেয়েও মিস করেছেন শাহরিয়ার ইমন-মজিবর রহমান জনিরা। টানা গোল মিসের মহড়ায় ভারতের সাথে গোল শূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ল বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

ম্যাচের প্রথম ৩০ সেকেন্ডেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। হামজার পাস থেকে রাইট উইংয়ে বল পান মজিবর রহমান জনি। ভারতের গোলরক্ষক বিশাল কাইথও এগিয়ে এসেছিলেন এর আগে। তখন গোলপোস্ট প্রায় ফাঁকাই, ভারতের পোস্ট বরাবর দাঁড়িয়ে ছিলেন কেবল এক ডিফেন্ডার। এমন অবস্থায় পোস্টে শট নিয়ে লক্ষ্য ঠিক রাখতে পারেননি জনি। বল জালে জড়ায় টাচলাইনের বাইরের অংশে।

ম্যাচের নবম মিনিটে মিনিটে ডান দিক থেকে রাকিবের এরিয়াল ক্রস পেয়ে শাহরিয়ার ইমন হেড করেন ঠিকই, বল রাখতে রাখতে পারেননি লক্ষ্যে।

পরের মিনিটে আরও একটা সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয় বাংলাদেশের। কর্নার থেকে অভিষিক্ত হামজা চৌধুরীর নেয়া শট প্রথমে খুঁজে পায় ভারত গোলরক্ষক বিশাল কাইথের গ্লাভস। সেখান থেকে শাকিল আহাদ তপুর গায়ে লেগে রিবাউন্ডে বল পান মোহাম্মদ হৃদয়। কিন্তু সেখানেই ব্যর্থ তিনি। তার নেয়া বাম পায়ের দুর্বল শট, ছুটে এসে ক্লিয়ার করেন ভারতের ডিফেন্ডার।

৭ মিনিট পর টার্ন নিয়ে মোরসালিনের করা দারুণ এক ক্রস ডি বক্সে উড়ে যায়, লাফিয়ে উঠেও মাথা ছোয়াতে পারেননি শাহরিয়ার ইমন। সেই আক্রমণের পর প্রথম ২০ মিনিট শেষে অন টার্গেটে বাংলাদেশের শট ছিল চারটা, ভারতের ছিল মাত্র একটা।

২০ মিনিটের মাথায় হলুদ কার্ড দেখেন জনি। ২২ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক তপু বর্মন। বদলি হিসেবে নামেন রহমত মিয়া।

বাংলাদেশের গোলপোস্টে ২৮ মিনিটে দ্বিতীয় শট নেয় ভারত। এরপর আরও আক্রমণ শানান ভারতের অ্যাটাকাররা।৩০ মিনিটে বাম দিকে থেকে উড়ে আসা বলে উদন্ত সিং করেন হেড, রিবাউন্ডে বল পেয়েও এরপর গোল করতে পারেনি ভারত মিতুলের দক্ষতায় ।

তবে বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় সুযোগটা মিস করে ৪১ মিনিটে। শুধু গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করা দূর, শটও নিতে পারেননি জনি। বাংলাদেশের আক্রমণ আর সুযোগ মিসের মহড়ায় গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা।

 দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই অবশ্য প্রেসিং ফুটবল শুরু করে ভারত। তবে প্রথম আক্রমণটা করে বাংলাদেশই। ৫১ মিনিটে ডানদিকে ভারতের বক্সের বামদিক থেকে ঢুকেন রাকিব। তবে এই স্ট্রাইকার শট নিলে বল যায় গোলপোস্টের বাইরে।

প্রেসিং ফুটবলের পসরা সাজিয়ে  ৫৪ মিনিটে লিস্টন কোলচাওয়ের ক্রস থেকে গোলের সুযোগ আসে ভারতের। উড়ন্ত বল ফাঁকি দেয় মিতুল মারমাকে। শাকিল আহাদ তপু আর রহমত মিয়ার মাঝের পকেট স্পেস কাজে লাগিয়ে হেড করতে চান সুনীল ছেত্রী। মূলত উচ্চতা ও টাইমিংয়ের গড়বড়েই হেডটা করতে পারেননি অবসর ভেঙে ফেরা এই স্ট্রাইকার।

ভারতের টানা আক্রমণের মধ্যেও বদলি হওয়ার আগে ৬১ মিনিটে সুযোগ হাতছাড়া করেন জনি। অবশ্য সেসবও দমাতে পারেনি ভারতের আক্রমণভাগকে। ৭০ মিনিটের পর মুহুর্মূহু আক্রমণে বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত করে তোলেন ফারুখ-শুভাশিষরা।

৭১ মিনিটে ফারুকের শট স্লাইড করে আটকে দেন সাদ উদ্দিন আর মোহাম্মদ হৃদয়। সেই শটে কর্নার পেয়ে ৭২ মিনিটে লিস্টনের নেয়া কিক থেকে বল পেয়ে হেড করেন শুভাশিষ। তড়িৎগতির হেড অবশ্য খুঁজে পায়নি গোলপোস্ট।

৭৪ মিনিটে রাকিবের ক্রস থেকে জায়গামতো বল পেলেও স্লাইড করে ফিনিশিংটা ঠিকঠাক করতে পারেননি বদলি ফাহিম ফয়সাল। ৮৯ মিনিটেও দারুণ এক শট নেন এই ফরোয়ার্ড, তবে দুরন্ত গতির সেই শট আটকে দেন ভারত গোলরক্ষক। অবশ্য এর আগে ৮৩ মিনিটে সুবিধাজনক অবস্থা থেকেও গোল করতে পারেননি ছেত্রী।

সারাবাংলা/জেটি