Wednesday 01 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

প্রিয়জনের শূন্যতায় জয়া আহসানের ঈদ আনন্দ ফিকে

এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক
২২ মার্চ ২০২৬ ১৫:৫৩

দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসানের কাছে ঈদ মানেই বরাবরই একরাশ আনন্দ আর পারিবারিক মেলবন্ধন। তবে এবারের ঈদুল ফিতর তার জন্য নিয়ে এসেছে কিছুটা মিশ্র অনুভূতি। উৎসবের আমেজ চারদিকে ছড়িয়ে থাকলেও জয়ার মনে বাসা বেঁধেছে বিষণ্ণতার ছায়া, যার প্রধান কারণ তার ছোট ভাই। কর্মব্যস্ততার কারণে বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন তার ভাই এবং সেখানেই তিনি আটকা পড়েছেন। প্রিয় মানুষের অনুপস্থিতি যে উৎসবের রঙকে কিছুটা ফিকে করে দেয়, জয়া আহসানের এবারের ঈদ উদযাপন তারই যেন এক প্রতিচ্ছবি। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের এক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে অভিনেত্রী নিজেই জানিয়েছেন তার এই মন খারাপের কথা। ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে মায়ের মনও বেশ ভারাক্রান্ত, যা জয়াকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। তবে মন খারাপকে সঙ্গী করেই তিনি চেষ্টা করেছেন পরিবারের বাকি সদস্যদের সঙ্গে আনন্দটুকু ভাগ করে নিতে।

বিজ্ঞাপন

জয়ার কাছে ঈদের উৎসব শুরু হয় মূলত চাঁদ রাত থেকেই। তার বাড়িতে চাঁদ রাত মানেই এক বিশাল আয়োজন আর তোড়জোড়। এদিন রকমারি পদের রান্নাবান্নার পাশাপাশি চলে হাত সাজানোর ধুম। জয়া আহসান নিজেও ঐতিহ্যের ধারা বজায় রেখে হাতে মেহেদি পরেছেন এবং এবার কাঁচের চুড়িতে নিজের হাত সাজিয়ে এক স্নিগ্ধ লুকে ধরা দিয়েছেন। চাঁদ রাতে পরিবারের সব ভাই-বোনেরা একত্রিত হওয়ার যে রীতি, সেখানে ভাইয়ের অভাব তিনি প্রতি মুহূর্তে অনুভব করেছেন। ঈদের দিন সকালটাও শুরু হয়েছে চিরাচরিত নিয়মে। ঘুম থেকে উঠে গোসল সেরে মা এবং বাড়ির বড়দের সালাম করে দোয়া নেওয়ার মাধ্যমেই তার দিনের সূচনা হয়। ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে মায়ের বিষণ্ণতা কাটাতে জয়া এবার বাড়িতে এক বিশেষ মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেছিলেন। যেখানে তার বোন এবং পরিবারের অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনরা উপস্থিত হয়ে আড্ডা ও গল্পে মেতেছিলেন।

সালামি আর উপহারের দিক থেকে অবশ্য জয়া এবার বেশ ভাগ্যবান। ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে এত বেশি উপহার পেয়েছেন যে, নিজের জন্য এবার আলাদা করে কিছু কেনাকাটা করার প্রয়োজনই বোধ করেননি তিনি। তবে নিজের জন্য কিছু না কিনলেও মায়ের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ ঘটাতে ভোলেননি; মায়ের জন্য পছন্দ করে কিনেছেন একটি সুন্দর শাড়ি। দুপুরের খাবারে আত্মীয়-স্বজন আর বন্ধুদের আপ্যায়ন করে জয়া চেষ্টা করেছেন একাকিত্ব দূর করতে। ভাইয়ের জন্য মন কেমন করলেও সবার সঙ্গে আড্ডা আর খাওয়া-দাওয়ার মধ্য দিয়েই তিনি খুঁজে নিয়েছেন ঈদের প্রকৃত সার্থকতা। জয়ার এই উদযাপন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, উৎসবের জৌলুস যতই থাকুক না কেন, পরিবারের কোনো একজন সদস্য দূরে থাকলে সেই পূর্ণতা পেতে কিছুটা সময় লাগে। তবুও প্রিয়জনদের পাশে নিয়ে আগামীর সুন্দর দিনের প্রত্যাশায় হাসি মুখেই এবারের ঈদ পার করেছেন এই গুণী অভিনেত্রী।

সারাবাংলা/এফএন/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর