Wednesday 01 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সিরাজগঞ্জে গৃহকর্মীকে চুরির অপবাদে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৩১ মে ২০২৬ ১৭:২৬ | আপডেট: ৩১ মে ২০২৬ ২১:৩৫

২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, সিরাজগঞ্জ।

সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জ শহরে গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত এক তরুণীকে চুরির অপবাদ দিয়ে একটি কক্ষে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষক ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা সিরাজগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। নির্যাতনের শিকার তরুণী বর্তমানে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা মো. জয়নাল আবেদীনের মেয়ে আয়না খাতুন (১৮) দীর্ঘদিন ধরে শহরের বিএ কলেজের দক্ষিণ পাশে ভাড়া বাসায় বসবাসকারী শিক্ষক শিউলি ও তার স্বামী ডা. মো. নূরুল ইসলামের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন। শিক্ষক শিউলি সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজে এবং ডা. নূরুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজে কর্মরত রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, সম্প্রতি বসন্ত রোগে আক্রান্ত হওয়ায় গত ২৩ মে আয়না খাতুনকে বেতন পরিশোধ করে ছুটি দিয়ে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর গত ৩০ মে শিক্ষক শিউলি জরুরি কাজের কথা বলে আয়নাকে আবার তাদের বাসায় ডেকে নেন।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, বাসায় যাওয়ার পর আয়নাকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় এবং বাসা থেকে স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগ এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আয়না এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানালে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে হারিয়ে যাওয়া গয়না ‘ফেরত দেওয়ার জন্য’ চাপ দেওয়া হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আয়না খাতুন বলেন, ‘আপা আমাকে বাসায় ডেকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে গয়না চুরির কথা জানতে চান। আমি বলি, আমি কোনো গয়না নিইনি। এরপর তারা আমাকে বারবার চাপ দিতে থাকেন। আমি কিছু জানি না বললে আমাকে মারধর করা হয়। আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরে হাসপাতালে আনা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি তাদের বাসায় কাজ করেছি। কখনও কোনো জিনিস নিইনি। আমার ওপর মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।’

আয়নার বাবা মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। সে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। মেয়ের চিকিৎসা ও দেখভালের কারণে থানায় অভিযোগ করতে কিছুটা দেরি হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গয়না উদ্ধার না হলে আয়না খাতুন, তার বাবা এবং তার স্বামীকে ধরে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার সাক্ষী হিসেবে স্থানীয় কয়েকজনের নামও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডা. নূরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করেননি এবং একইসঙ্গে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্যও অনুরোধ করেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দিতে তিনি রাজি হননি।

অন্যদিকে, শিক্ষক শিউলির বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রাকিব হোসেন বলেন, ‘আমি এখনও এ ধরনের কোনো অভিযোগ হাতে পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর