বান্দরবান: টানা দুইদিনের ভারী বর্ষণে বান্দরবানে পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গু নদীর পানি বাড়তে থাকায় নদীতীরবর্তী এলাকায় প্লাবনের শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। জেলার সাত উপজেলায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী কয়েক হাজার পরিবার ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর উপজেলার কালাঘাটা, কাসেমপাড়া, ইসলামপুর, বনরূপাপাড়া, হাফেজঘোনা, বাসস্টেশন এলাকা, স্টেডিয়াম এলাকা, নোয়াপাড়া ও কসাইপাড়াসহ জেলার সাত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের পাদদেশে অপরিকল্পিতভাবে কয়েক হাজার পরিবার বসবাস করছে। টানা বৃষ্টিতে এসব পরিবার পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে।
এদিকে টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গু নদীর পানি ক্রমেই বাড়ছে। এতে নদীতীরবর্তী ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বান্দরবান পৌরসভার বালাঘাটা ফজর আলী পাড়া এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী নুরুল আলম বলেন, ‘টাকার অভাবে কম দামে পাহাড় থেকে জায়গা কিনেছি। ঝুঁকি আছে জেনেও পাহাড়ের নিচে একটু জায়গা সমান করে পরিবার নিয়ে কোনোরকমে থাকি।’
ইসলামপুরে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী এক বাসিন্দা বলেন, ‘এ ঘর ছাড়া আমাদের অন্য কোনো অবলম্বন নেই। তাই আমরা বাধ্য হয়েই এখানে বসবাস করছি।’
বান্দরবানের মৃত্তিকা ও পানি সংরক্ষণ কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, ‘অতিরিক্ত পরিমাণে পাহাড় কাটার ফলে পাহাড়ে মাটির ওপরের স্তর সরে গিয়ে ভেতরের নরম অংশ বেরিয়ে আসে। এর ফলে ভূমিক্ষয়ের মাধ্যমে পাহাড়ে ফাটল তৈরি হয়। এ অবস্থায় বর্ষায় ভারী বর্ষণে পাহাড়ের ফাটলে পানি ঢুকে পাহাড় ধসে পড়ে।’
বান্দরবান পৌর প্রশাসক মঞ্জুর আলম বলেন, ‘কয়েকদিনের টানা বর্ষণে পাহাড়ধস এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা সতর্ক অবস্থায় আছি।’
বান্দরবান জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবিলায় সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সাত উপজেলায় পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা সব বসবাসকারীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে এরইমধ্যে প্রতিটি উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনওকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’