চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের দুর্গম পাহাড়ে নিয়ে আট বছরের শিশু ইরা মনিকে শ্বাসনালি কেটে হত্যার ঘটনায় ৫ মাসের মাথায় আসামি বাবু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) হত্যাকাণ্ডের পাঁচ মাসের মাথায় চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস আলোচিত এই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।
ট্রাইবুনালের বেঞ্চ সহকারী আব্বাস হোসেন বলেন, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার অভিযোগ ‘প্রমাণিত হওয়ায়’ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।
রায়ে আদালত দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার অপরাধে আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৭ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং একই আইনের ৯(৪)(খ) ধারায় ধর্ষণের চেষ্টার অপরাধে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
বাদীপক্ষের (ইরার) আইনজীবী অতিরিক্ত জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু বলেন, শিশু ইরার ওপর সংঘটিত অপরাধ ছিল অত্যন্ত নৃশংস ও মানবতাবিরোধী। রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণ, ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামতের মাধ্যমে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন। আমরা মনে করি, এই রায় ভবিষ্যতে শিশু ও নারী নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত ১ মার্চ সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের দুর্গম পাহাড় এলাকায় শিশু জান্নাতুল নাঈম ইরাকে হত্যা করা হয়। তদন্ত শেষে গত ১৫ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক কামরুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গত ১৮ জুন আদালত অপহরণ, ধর্ষণের চেষ্টা ও হত্যা ধারায় অভিযোগ গঠন করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। গত ২ জুলাই উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায়ের জন্য ৯ জুলাই দিন ধার্য করেন।
নিহত ইরা মনি সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট কুমিরা মাস্টারপাড়ার টমটমচালক মনিরুল ইসলামের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১ মার্চ চকলেট কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ইরা মনিকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায় অভিযুক্ত বাবু শেখ। পরে সীতাকুণ্ডের বোটানিক্যাল গার্ডেন-সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি প্রকাশ করে দেওয়ার কথা বললে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির গলা কেটে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর ইরা মনির মা সীতাকুণ্ড থানায় মামলা দায়ের করেন।