হিলি: দিনাজপুরের বীরগঞ্জে এক কলেজছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি ইব্রাহিম হুসেন ইমনকে (২৪) গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৩)।
শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত পৌনে ১২টার দিকে বীরগঞ্জ থানাধীন ভগিরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
গ্রেফতার ইব্রাহিম হুসেন ইমন দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ থানার ভগিরপাড়া এলাকার মো. তাওয়াজ উদ্দিনের ছেলে।
মামলার এজাহার ও র্যাব সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণী স্থানীয় বীরগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের ছাত্রী। তিনি বীরগঞ্জে একটি মেসে থেকে পড়াশোনা করতেন। আসামি ইমন দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করাসহ প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। প্রথম দিকে রাজি না হলেও, পরবর্তীতে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই ছাত্রীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে ইমন।
গত ১৯ এপ্রিল দুপুর পৌনে একটার দিকে বীরগঞ্জ থানাধীন তাজমহল সিনেমা হলের সামনে থেকে কৌশলে ওই ছাত্রীকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায় ইমন। পরে নীলফামারীর ডিমলা পোস্ট অফিস মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণ করে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন তাদের আটকে করে এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যদের মাধ্যমে উভয়পক্ষের অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর পরিবার বিয়ের ব্যাপারে যোগাযোগ করলে ইমনের পরিবার বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে গত ৮ মে বীরগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকেই গ্রেফতার এড়াতে ইমন দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে চলে যায়।
র্যাব-১৩ জানায়, ঘটনাটি জানার পর থেকেই আসামিকে গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রাতে র্যাব-১৩, দিনাজপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বীরগঞ্জের ভগিরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি ইমনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতার আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।