রাজবাড়ী: সামান্য বৃষ্টি হলেই পালটে যায় রাজবাড়ী বাজারের চিত্র। ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে থাকা ড্রেনের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ায় বাজারের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের। কেউ বাধ্য হয়ে পানি পেরিয়ে কেনাকাটা করলেও অনেকেই দুর্ভোগ এড়াতে বাসায় ফিরছেন।
রোববার (১২ জুলাই) সরেজমিনে রাজবাড়ী বাজারের পালপট্টি, চাউল বাজার, ফল বাজারের প্রবেশপথ, পান বাজার মন্দির, তরকারি বাজারসহ আশপাশের এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, টানা বৃষ্টিতে বাজারের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে রয়েছে। অনেক দোকানদার দোকান খোলেননি, আবার অনেক ক্রেতা বাজারে এসে জলাবদ্ধতা দেখে ফিরে যাচ্ছেন। অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই বাজারসংলগ্ন সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। এতে পথচারীদের পাশাপাশি ছোট-বড় যানবাহন চলাচলেও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

মুদি দোকানদার শুশান্ত বলেন, ‘একটু বৃষ্টি হলেই তরকারি বাজারে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। পৌরসভা নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করলে এই সমস্যা হতো না। পানি জমে থাকায় অনেক ক্রেতা বাজারে না ঢুকেই ফিরে যান। এতে আমাদের ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।’
সবজি বিক্রেতা ইমন বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই ড্রেনের পচা পানি বাজারে উঠে আসে। দুর্গন্ধযুক্ত এই পানির কারণে ক্রেতারা আসতে চান না। ফলে কাঁচা পণ্য বিক্রি না হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। কর্মচারীরাও দীর্ঘ সময় পানিতে দাঁড়িয়ে কাজ করতে চান না। বহুবার পৌরসভায় অভিযোগ জানিয়েও কোনো স্থায়ী সমাধান পাইনি।’
আরেক মুদি দোকানদার অনুপ বলেন, ‘দোকানের সামনে হাঁটুসমান পানি থাকলে ক্রেতারা আসবেন কীভাবে? আজ হাটের দিন হলেও আমার বাবাসহ অনেকেই দোকান খোলেননি। আমাদের এই দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।’

বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, রাস্তার পাশে ড্রেন থাকলেও নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। ফলে আবর্জনায় ড্রেন ভরাট হয়ে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যায়। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করা হলে এ ধরনের জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমে আসবে বলে তাদের দাবি।
রিকশাচালক রহমান বলেন, ‘পানি জমে থাকায় রাস্তার কোথায় গর্ত বা ভাঙন আছে বোঝা যায় না। অনেক সময় রিকশার চাকা গর্তে পড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। এতে চালক ও পথচারী—দুজনেরই ভোগান্তি বাড়ছে।’
এ বিষয়ে রাজবাড়ী পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হক বলেন, ‘চাউল বাজার, তরকারি বাজারসহ কয়েকটি স্থানে বৃষ্টির সময় পানি জমে থাকার বিষয়টি আমরা জেনেছি। সংশ্লিষ্ট ড্রেনেজ ব্যবস্থায় কিছু সমস্যা রয়েছে। দ্রুত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করব।’