সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে জামিনের পর হত্যা মামলায় আবারও গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সাতক্ষীরার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিলাস মণ্ডলের আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অনাথ মিত্রের আবেদনের পর তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি যশোরের পিকনিক কর্নারের সামনে সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মামলাটি ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা সদর থানায় দণ্ডবিধির ৪৬৪/৩০২/২০১/১৪৯/৩৪ ধারায় (মামলা নম্বর–১৪, জিআর নম্বর–৪০৩/২৪) নথিভুক্ত হয়।
মামলার বাদী সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কাশেমপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ইমদাদুল হক। তিনি ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট সাতক্ষীরার ১ নম্বর আমলি আদালতে তৎকালীন পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবিরসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। পরে আদালতের নির্দেশে অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে সাতক্ষীরা সদর থানায় নথিভুক্ত হয়।
এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, তার ভাই শহিদুল ইসলাম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তাকে ২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে যশোরের পিকনিক কর্নারের সামনে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সে সময় ঘটনাটি ইউডি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয় এবং হত্যা মামলা নিতে পুলিশ অস্বীকৃতি জানায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ ও সাক্ষীদের সঙ্গে আলোচনা করে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
লায়লা পারভীন সেঁজুতির আইনজীবী প্যানেলের সদস্য অ্যাডভোকেট আল মাহামুদ পলাশ জানান, ২০২৬ সালের ৩ জুন হাইকোর্ট সর্বশেষ মামলায় তার মক্কেলকে জামিন দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করলে আদালত ‘নো অর্ডার’ দেন। ১০ জুন ওই মামলায় জামিননামা দাখিলের পর ১৩ জুন তাকে জিআর-৩৯৯/২৪ নম্বরের আরেকটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে ২৫ জুন ওই মামলায় সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালত তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। এরপর ২৯ জুন তাকে জিআর-৪০২/২৪ নম্বরের আরও একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। ওই মামলায়ও ৯ জুলাই জেলা ও দায়রা জজ আদালত তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।
এর আগে, ২০২৫ সালের ২০ মে রাতে সাতক্ষীরা শহরের রাধানগরের নিজ বাড়ি থেকে লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর বিশেষ ক্ষমতা আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় দায়ের করা একাধিক মামলায় পর্যায়ক্রমে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।