Sunday 23 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

গোয়ালন্দে বারেক হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, নিহতের ছোট ভাইসহ গ্রেফতার ৩

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৩ আগস্ট ২০২৬ ২০:৩৪ | আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২৬ ২১:০৭

রাজবাড়ী: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে চাঞ্চল্যকর ফারুক শেখ (৪৬) হত্যা মামলার রহস্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী নিহতের আপন ছোট ভাই বারেক শেখসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি রক্তমাখা ধারালো দা, রক্তমাখা পোশাক, মোবাইল ফোন ও মাস্ক উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (২৩ শে আগস্ট) বিকেলে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

গ্রেফতাররা হলেন- গোয়ালন্দ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কেউটিল জামতলা এলাকার মো. খালেক শেখের ছেলে ও নিহত ফারুকের ছোট ভাই মো. বারেক শেখ(৪৪), দৌলতদিয়া ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হোসেন মন্ডলপাড়ার ওয়াজেদ সরদারের ছেলে মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলম (২৬) ও একই এলাকার মো. বাবু শেখের ছেলে মো. রুবেল শেখ (৩০)।

বিজ্ঞাপন

নিহত ফারুক শেখ গোয়ালন্দ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জামতলা এলাকার খালেক শেখের ছেলে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামসুল হক জানায়, গত ২২ আগস্ট দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে ২টার মধ্যে গোয়ালন্দঘাট থানার জামতলা এলাকায় নিজ বসতবাড়ির শয়নকক্ষে ফারুক শেখকে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. খালেক শেখ (৭০) বাদী হয়ে ওই দিনই গোয়ালন্দঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পর গোয়ালন্দঘাট থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি চৌকস দল তদন্ত শুরু করে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিহতের ছোট ভাই বারেক শেখকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, পারিবারিক কলহ, জীবদ্দশায় মাকে মারধর এবং ফারুকের টাকা-পয়সা ও সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বারেক শেখ হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি দৌলতদিয়া এলাকার সহকর্মী মো. আলমগীর হোসেন ও মো. রুবেল শেখকে ৩ হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে হিসেবে নিয়োগ করেন।

পুলিশ জানায় পরিকল্পনা অনুযায়ী ২২ আগস্ট দুপুরে আলমগীর ও রুবেল বারেক শেখের বাড়িতে গেলে তিনি আগে থেকে সংগ্রহ করা দুটি ধারালো দা তাদের হাতে তুলে দেন এবং নিজে অন্যত্র চলে যান। পরে আলমগীর ও রুবেল ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত ফারুক শেখকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান। পরে বারেক শেখের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গোয়ালন্দঘাট থানার দৌলতদিয়ার হোসেন মন্ডলপাড়া ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ নিজ বাড়ি থেকে মো. আলমগীর হোসেন ও মো. রুবেল শেখকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত রুবেল ও আলমগীরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনাস্থলের পাশের একটি ময়লার স্তূপ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি রক্তমাখা ধারালো দা উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও রক্তমাখা গেঞ্জি-প্যান্ট, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও মাস্ক উদ্ধার করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামসুল হক জানান, এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ৩ আসামিকেই বিজ্ঞ আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ সংশ্লিষ্ট আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ডিআইও-১ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম, জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.মফিজুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।