ঢাকা: আন্তর্জাতিক বায়ুমণ্ডলীয় মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর বৈশ্বিক সূচকে ঢাকার অবস্থান বর্তমানে সহনীয় পর্যায় রয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ দূষিত শহরের তালিকায় ১৯ নম্বরে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী।
বুধবার ( ২৬ আগস্ট ) সূচকে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) স্কোর নথিভুক্ত হয়েছে ৯০, যাকে বায়ুমানের স্কেলে ‘সহনীয়’ হিসেবে ধরা হয়। এই তালিকায় ১৯৬ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ভারতের দিল্লি এবং ১৯৪ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর।
যদিও সাময়িকভাবে ঢাকার বায়ুমান কিছুটা উন্নত বা মাঝারি অবস্থায় রয়েছে, বছরের অধিকাংশ সময় বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে এই স্কোর মারাত্মক ঝুঁকির সীমানা (১৫০ থেকে ২০০+) অতিক্রম করে ফেলে। প্রতিনিয়ত অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণকাজ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং আশেপাশের ইটভাটার কারণে ঢাকার বাতাসে ক্ষতিকর কণা সূক্ষ্ম বস্তুকণা (PM2.5)-এর উপস্থিতি বেড়ে যায়, যা মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
দূষিত বায়ু থেকে আত্মরক্ষায় করণীয়
বাতাসের মান খারাপ থাকলে দৈনন্দিন জীবনে কিছু বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি:
মাস্ক ব্যবহার: বাইরে বের হওয়ার সময় বিশেষ করে N95 বা KN95 মানের মাস্ক পরিধান করা উচিত, যা বাতাসের সূক্ষ্ম ক্ষতিকর কণা ফুসফুসে প্রবেশ করতে বাধা দেয়।
সংবেদনশীলদের সতর্কতা: শিশু, বয়স্ক এবং অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টের রোগীদের বাইরে অতিরিক্ত সময় না কাটানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
ঘরের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ: দূষণের মাত্রা বেশি থাকলে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রাখা এবং সম্ভব হলে ইনডোর এয়ার পিউরিফায়ার (Air Purifier) ব্যবহার করা।
শারীরিক চর্চার সময়: ভোরে বা সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে রাস্তার পাশে ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি না করে ঘরের ভেতরে হালকা শরীরচর্চা করা উত্তম।
বিশেষজ্ঞদের মতামত ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধান
পরিবেশবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার বায়ু দূষণ কেবল একটি পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি একটি মারাত্মক জনস্বাস্থ্য সংকট। বিশেষজ্ঞদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ:
স্বাস্থ্য ঝুঁকি প্রতিরোধ: চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন যে দীর্ঘমেয়াদে দূষিত বায়ুর সংস্পর্শে থাকলে শ্বাসকষ্ট, ব্রংকাইটিস, হৃদরোগ এমনকি মানসিকভাবেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
উৎস বন্ধে কঠোরতা: নগরের ভেতরে ও আশপাশে অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা এবং নির্মাণকাজের প্রাঙ্গণ ঢেকে রাখা বাধ্য করতে আইন প্রয়োগের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সবুজ বেষ্টনী ও গণপরিবহন: ঢাকার বাতাসে অক্সিজেনের সামঞ্জস্য রাখতে নগরায়নের পাশাপাশি সবুজ বৃক্ষরোপণ বাড়ানো এবং পুরনো বা অপরীক্ষিত যানবাহনের কালো ধোঁয়া নির্গমন বন্ধের ওপর জোর দিতে হবে।
নগরবাসীর দৈনন্দিন সতর্কতা এবং সরকারের কঠোর নীতি প্রণয়নই পারে ঢাকাকে বায়ুদূষণের এই দীর্ঘমেয়াদী সংকট থেকে মুক্ত রাখতে।