ঢাকা: দেশের প্রধান নদ-নদীর পানি হ্রাস পাওয়ার ধারা অব্যাহত রয়েছে। উজানের অববাহিকা ও দেশের অভ্যন্তরে ভারি বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে আসায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির ক্রমান্বয়ে উন্নতি হচ্ছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট )পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট আবহাওয়া বুলেটিনের তথ্যানুযায়ী, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি কমতে শুরু করেছে।
তিনি বলেন, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই এবং ধলাই নদীর পানি সমতল বিপদসীমার নিচে অবস্থান করছে। তিনি আরও বলেন, পূর্বাঞ্চলীয় নদীগুলোর পানি হ্রাসের কারণে ওইসব এলাকার নিম্নাঞ্চলের বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির ধারাবাহিক উন্নতি হচ্ছে।
আবহাওয়া ও হাইড্রোলজিক্যাল বিশ্লেষণে জানা গেছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে আগামী দুই দিন ভারী বৃষ্টিপাতের জোরালো সম্ভাবনা নেই। কুমিল্লা অঞ্চলের গোমতী নদী এবং ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলের পানি পরিস্থিতি স্থিতিশীল থেকে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও কর্ণফুলী নদীর পানি সমতল সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হলেও সার্বিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা বলেন, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানি হ্রাস পাচ্ছে এবং গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি সমতল স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। তারা আরও বলেন, উত্তর অঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর প্রবাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে যা সামনের দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকতে পারে।
পানি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ১০০টি সমতল পর্যবেক্ষণ স্টেশনের তথ্যানুযায়ী অধিকাংশ স্থানেই নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় পর্যবেক্ষণ টিম এবং প্রকৌশলীরা সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছেন। পানি হ্রাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীভাঙন ঠেকাতে ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে পানি নেমে যাওয়ায় ধীরে ধীরে মানুষের জনজীবন স্বাভাবিক হয়ে আসছে বলে বুলেটিংয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে।