Tuesday 30 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নারিন্দায় পুরোহিতকে অপহরণের পর নির্যাতনের অভিযোগ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩০ জুন ২০২৬ ১৮:৪২ | আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ১৯:১২

অপহরণের শিকার পুরোহিত সুভাষ দেউরী। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: রাজধানীর নারিন্দা এলাকা থেকে এক পুরোহিতকে অপহরণের পর নির্যাতন করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আহত সুভাষ দেউরী (২৭) নামে ওই পুরোহিতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) রাত ৮টার দিকে ওয়ারী স্বামীবাগ এলাকা থেকে তিনি অপহৃত হন। এর পর মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে তিনি নিজেই কৌশলে সেখান থেকে মুক্ত হয়ে আসেন। পরে রুমমেটের সহায়তায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।

সুভাষ পুরান ঢাকার সেন্ট্রাল ল’ কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্র। পাশাপাশি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্দিরের সহকারী পুরোহিত। তার বাড়ি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায়। তিনি ওয়ারী নারিন্দা রোড় অগ্রণী ব্যাংকের পাশে একটি বাসায় মেস করে থাকেন।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতালে আহত সুভাষ জানান, কোনো কিছু ভালো না লাগলে তখন তিনি বাইরে একা একা হাঁটেন। সোমবার রাত ৮টার দিকে বাসা থেকে বের হন। রিকশা নিয়ে স্বামীবাগ যান। এরপর কী হয়েছে তিনি জানেন না।

তিনি বলেন, ‘আমার মাইগ্রেনের সমস্যার পর থেকে আমার কোনো কিছু বেশিক্ষণ মনে থাকে না। রাতে দেখি আমি একটি মেস বাসার ভেতরে। আমাকে আটকে রেখেছে ৭-৮ জন যুবক। তাদের দেখে মাদকাসক্ত মনে হয়েছে। বাসার ভেতর কয়েকজন ইয়াবাও সেবন করছিল। তারা আমাকে মারধর করতে থাকে। আমার কাছে মোবাইল, মানিব্যাগ যা ছিল তা হাতিয়ে নেয়। মোবাইলের মেসেজ ঘেটে দেখে আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা আছে। সেখান থেকে তারা ৩০ হাজার টাকা তুলে দিতে বলে। তবে আমার ফোনে ব্যাংকের অ্যাপ বা চেক বই সঙ্গে ছিল না। সেজন্য তারা টাকা নিতে পারছিল না। তখন তারা আমার রুমমেটকে ফোন করিয়ে বিকাশে ছয় হাজার টাকা নেয়। এরপর আমার বোনকে ফোন করিয়ে আরও ২০ হাজার টাকা নেয়।’

সুভাষ দেউরী বলেন, ‘তাদের আমি আমার পরিচয় দেইনি। বলেছি, আমি এই এলাকায় দিনমজুরের কাজ করি। তবে আমার গলায় হিন্দু ধর্মের মালা থাকায় তারা বুঝে নেয় আমি হিন্দু। আমি মন্দিরের পুরোহিত সেটিও তাদের বলিনি। এর পর সারারাত তারা আমাকে অনেক নির্যাতন করে। তারা আমাকে মেরে ফেলাসহ আরও অনেক ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা যোগার করতে বলে। এক পর্যায়ে আমি সেখান থেকে পালানোর পরিকল্পনা করি। কৌশলে তাদের বলি আমাকে ছাদে নিয়ে যেতে। সেই ছাদ থেকে আমি কীভাবে বাইরে পড়ে গিয়েছি নাকি তারাই আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে তা বলতে পারছি না। পরে দেখি কেউ একজন আমাকে রিকশায় তুলে দিচ্ছে।’

এরপর সেই রিকশায় তিনি নারিন্দায় বাসার সামনে যান। সেখান থেকে রুমমেটকে খবর দিলে রুমমেট তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তার কপালে কাটা জখম রয়েছো। এ ছাড়া বাম পায়ের গোড়ালি ভেঙে গেছে। ডান পায়ের গোড়ালিতেও আঘাত পেয়েছেন। তার ধারণা, ওই অপহরণকারীরা নিয়মিতই এমন করে রাস্তা থেকে মানুষজনকে তুলে নিয়ে মুক্তিপণ আদায় করে বা টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়। তবে তাদের কাউকেই তিনি আগে কখনও দেখেননি বা চেনেন না বলে দাবি করেন।

ওয়ারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মফিজুর রহমান বলেন, ‘ভুক্তভোগী সুভাষ দেউরী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্দিরের সহকারী পুরোহিত। মঙ্গলবার রাতে সুভাষ স্বামীবাগের একটি ইসকন মন্দিরে যায়। সেখানে প্রবেশের পর কয়েকজন তাকে একটি বাসায় নিয়ে যায় বলে তিনি দাবি করেছেন। পরে ভোরে তিনি ওই বাসার কোন স্থান থেকে লাফ দিয়ে নিজেই পালিয়ে আসেন। লাফিয়ে পড়ার কারণে তিনি কিছুটা আঘাত পেয়েছেন ।’

ওসি আরও বলেন, ‘ঘটনাস্থলটি মূলত গেন্ডারিয়া থানার আওতাভুক্ত হলেও বিষয়টি ওয়ারী থানা পুলিশও তদন্ত করে দেখছে। এ ছাড়া ওই পুরোহিতের আগে থেকেই কিছু স্মৃতিজনিত সমস্যা রয়েছে। ফলে তিনি ঘটনার বিস্তারিত স্পষ্টভাবে বলতে পারছেন না। তারপরও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।’

সারাবাংলা/এসএসআর/পিটিএম