ঢাকা: চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্থায়ীভাবে সর্বনিম্ন ৩৫ বছর এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে অস্থায়ীভাবে ৪০ বছর করার দাবিতে সরকারকে ফের আলটিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আলটিমেটাম দেন আন্দোলনের মুখপাত্র মো. শরিফুল হাসান শুভ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৫ জুলাই পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ চেয়ে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা করা হয়। ওই কর্মসূচি থেকে সাত সদস্যের একটি টিম জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করে।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকেন এবং বৈঠক শেষে খসড়া ফাইলটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে বলে জানানো হয়। চলতি সপ্তাহে মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে বলেও শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সারা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা এখন অধীর আগ্রহে সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। বয়সসীমা বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরে তারা বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর মতোই চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। বিএনপির ২০২৬ সালের ইশতেহারের ৩১ দফার ২৩ দফায় এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি রয়েছে এবং দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও এরই মধ্যে এই দাবির পক্ষে মত দিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, করোনা মহামারিকালে সরকারি নিয়োগ বন্ধ থাকা, অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব, বিভিন্ন সময়ে ছাত্রসংগঠনের হামলা-মামলার কারণে শিক্ষাজীবনে বিলম্ব, নারী প্রার্থীদের পারিবারিক দায়িত্বজনিত প্রতিবন্ধকতা এবং সেশনজটের কারণে বহু মেধাবী শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বয়সসীমা বাড়ানো হলে অভিজ্ঞ ও দক্ষ প্রার্থীরাও প্রশাসনে কার্যকর অবদান রাখতে পারবেন এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের মানসিক চাপ ও হতাশাও কমবে বলে তারা মত দেন।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারকে আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য এক সপ্তাহের আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা কঠোর আন্দোলনের ডাক দেবেন বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।