Wednesday 30 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

খুলনায় নির্জনা হত্যার রহস্য উদঘাটন— যা বলছে পুলিশ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১২ জুলাই ২০২৬ ০০:০৩

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

খুলনা: প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে আরফানা হোসেন নির্জনা নামে এক কিশোরীকে হত্যা করেছেন তার বাবা ও মা। শনিবার (১১ জুলাই) খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘গত ৮ জুলাই রাতে খুলনা সদর থানাধীন প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর রোডে একটি প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি অজ্ঞাতনামা কিশোরীর মরদেহ পড়ে আছে মর্মে খুলনা সদর থানা পুলিশ সংবাদ পায়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ পরিচয় শনাক্ত ও হত্যার রহস্য উদঘাটনে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে। পিবিআই, সিআইডিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহায়তায় পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিকটিমের ছবি প্রচার, বেতার বার্তা প্রেরণ এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অজ্ঞাতনামা ভিকটিমের পরিচয় শনাক্ত করতে না পারায় থানা পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ১০ জুলাই খুলনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘তদন্তের ২৪ ঘণ্টার ভেতর নিহতের পরিচয় আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬) হিসেবে শনাক্ত হয়। তিনি সোনাডাঙ্গা থানাধীন বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং মো. আলিম হোসেন আকাশ ও আরিফা ইয়াসমিন সিমা দম্পতির কন্যা। পরবর্তী সময়ে খুলনা সদর থানা পুলিশ নিহতের বাসায় গিয়ে তার মা আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে (৩৫) জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে এক পর্যায়ে স্বীকার করেন যে, তার মেয়ে বিভিন্ন ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। ফলে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়। সেই কলহের কারণেই নিজ কন্যা আরফানা হোসেন নির্জনা এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। হত্যার পর মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর রোডে ফেলে রেখে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেন।’

পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘খুলনা সদর থানা পুলিশের একটি আভিযানিক টিম ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ১০ জুলাই আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি স্বেচ্ছায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ ঘটনায় জড়িত অপর আসামি মো. আলিম হোসেন আকাশকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (পিপিএম-সেবা) মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার এম এম শাকিলুজ্জামান, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রেজাউর রহমান, অতি. ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) অমিত কুমার বর্মন, সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) মো. শফিকুল ইসলাম, খুলনা থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম এবং খুলনার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

সারাবাংলা/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

রাজকীয় স্বাদের ছানার কোপ্তা কারি
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:৫৪

আরো

সম্পর্কিত খবর